ঢাকামঙ্গলবার , ১৩ জুন ২০২৩
  1. অগ্নিকান্ড
  2. অনুষ্ঠান
  3. অপরাধ
  4. অবৈধ বালু উত্তোলন
  5. অভিনন্দন
  6. অভিযোগ
  7. অর্থনীতি
  8. আইন ও বিচার
  9. আওয়ামী লীগ
  10. আওয়ামী লীগে
  11. আক্রান্ত
  12. আটক
  13. আত্মহত্যা
  14. আদালত
  15. আনন্দ মিছিল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জোচ্চুরির অভিযোগ

কামরুল ইসলাম চট্রগ্রাম
জুন ১৩, ২০২৩ ১০:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জোচ্চুরির অভিযোগ

কামরুল ইসলাম চট্টগ্রাম

খাদ্য বিভাগের সরকারি গম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-দুর্নীতি ও জোচ্চুরির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে জানাযায় , কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারি গম কালো বাজারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। গম লুটপাটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করতে গিয়ে সম্প্রতি তিনটি ময়দার মিলের বরাদ্দ বাতিল করেছে খাদ্য বিভাগ। তবে এসব মিলের বিপরীতে কী পরিমাণ গম বরাদ্দ দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করা হয়েছে তা তদন্ত করেনি খাদ্য বিভাগ।
গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে হাটহাজারীর চারিয়া ইউনিয়নের নোয়াহাট এলাকার মেসার্স ইউনুচ মিয়া মিলের বরাদ্দ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, মিলটি প্রায় বন্ধ থাকে। সাড়ে চার বছর ধরে মিলের মালিক প্রবাসে অবস্থান করেন। মিলটির প্রেষণ ক্ষমতা দেখানো হয়েছে ৫৮৬ মে. টন। প্রতি মাসে গম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের পরিদর্শক মনসুর হাবিব ও উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে লাখ লাখ টাকার গম লোপাট করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মিল মালিক ও খাদ্য বিভাগের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও মনসুর হাবিবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনসুর হাবিব গতকাল গণমাধ্যম কে বলেন, ‘ভুয়া অভিযোগ ছিল। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফখরুল আলম গণমাধ্যম কে বলেন, ‘ফাও অভিযোগ ছিল। গত সপ্তাহেও আমি লোক পাঠিয়ে খবর নিয়েছি।’ তিনটি মিলের গম বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফখরুল আলম।
খাদ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ মনসুর হাবিব গণমাধ্যম কে বলেন, নাজিরহাট মোড়ের ঝংকার রোডের মেসার্স ন্যাশনাল ফুড, নগরীর বায়েজিদ রাজামিয়া মার্কেটের মেসার্স মাহবুব ফ্লাওয়ার মিল ও তাহেরী ফুড নামে তিনটি ময়দার মিলের গম বরাদ্দ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। মার্চ-এপ্রিল মাসের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রলালয়ের বেসরকারি ময়দা মিলের সরকারি গম বরাদ্দ ও পেষাই এবং ফলিত আটা সরবরাহ নীতিমালা-২০২২ এর ৩ দশমিক ৭ ধারায় বলা হয়েছে, আটা সরবরাহকারী ময়দা মিলের মালিককে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর অঙ্গীকারনামা প্রদান করতে হবে। খাদ্য বিভাগের সঙ্গে মিল মালিকের অঙ্গীকারনামার ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ‘… কোনো অবস্থাতেই আমি কোনো প্রকার কারচুপি করবো না। যে কোন কারচুপির জন্য আমি আইনত দ-নীয় হবো।’
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গনমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সতত্যা পায়নি বলে জানান তিনি।
গতকাল সোমবার খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও মিল মালিকসহ ৪-৫ জনের কথা হয় গনমাধ্যমকে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি গম নিয়ে জোচ্ছুরি চলে আসছে। খাদ্য বিভাগের তিন কর্মকর্তার একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে গম নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছেন বলে জানান তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বন্ধ বা অনিয়মিত মিলের নামে সরকারি গম বরাদ্দ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিন কর্মকর্তার সমন্বয়ে মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট এছাড়াও কম প্রেষণ (উৎপাদন) ক্ষমতার মিলের বেশি প্রেষণ ক্ষমতা দেখিয়ে অতিরিক্ত গম বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দৈনিক গণমাধ্যম কে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ময়দার মিল, প্রেষণ ক্ষমতা, মিলের বিপরীতে বরাদ্দের তালিকা চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়েছে। লোভনীয় নানা প্রস্তাব দিয়ে গড়িমসি করেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এখনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
লমিলার ও ব্যবসায়ীরা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ^বাজারে গমের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। খোলাবাজারে কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা পর্যন্ত দাম ওঠেছিল। ওই সময়ে খোলাবাজারে গম বিক্রির অভিযোগ বেশি ছিল। সরকারের কম দরের গম বেশি লদরে খোলাবাজারে বিক্রিতে লাভের অর্ধেকের বেশি ভাগ দিতে হতো তিন কর্মকর্তার সিন্ডিকেট । এখনো প্রতিটি মিলারকে উৎকোচ দিতে হয় ওই কর্মকর্তাদের।
এক মিলার জানান, সরকার মিল মালিকদের কেজিপ্রতি ১৯ টাকা করে গম দেয়। সেই গম মিলিং করে আটা তৈরি করে ওএমএস ডিলারদের কাছে ২১ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করে মিলাররা। ডিলাররা ভোক্তাদের কাছে ২৪ টাকা দরে বিক্রি করেন। বর্তমানে খোলাবাজারে কেজি ৩৪-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

Design & Developed by BD IT HOST