ঢাকাThursday , 5 January 2023
  1. অপরাধ
  2. অভিনন্দন
  3. অর্থনীতি
  4. আইন ও বিচার
  5. আটক
  6. আত্মহত্যা
  7. আন্তর্জাতিক
  8. আর্থিক সহায়তা
  9. আলোচনা সভা
  10. আহত
  11. উদ্বোধন
  12. এক্সিডেন্ট
  13. ওয়াজ মাহফিল
  14. কৃষি বার্তা
  15. খুন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গলাচিপাতে চোর সন্দেহে পাঁচ শ্রমিককে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

Link Copied!

গলাচিপাতে চোর সন্দেহে পাঁচ শ্রমিককে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

মোঃ কবির হাওলাদার
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় গরু চুরির অপবাদ দিয়ে রাইস মিলের পাঁচ শ্রমিকেকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের পর কথিত পীরের পড়ানো ডিম সিদ্ধ ও পীরের নির্দেশনা অনুযায়ী মাথায় ১০১ কলস পানি ঢেলে ওই শ্রমিকদের গোসল করানো হয়েছে। এর আগে পীরের পড়ানো রুটি ওই শ্রমিকদের খাওয়ানো হয়। রবিবার (১লা জানুয়ারি) বিকেলে গলাচিপা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওই শ্রমিকদের ৪ জনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আশংকাজনক হওয়ায় এক জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার শিকার শ্রমিকরা হলো রহিম খা (৬৫), বেল্লাল বিশ্বাস (৩০), আবু তালেব গাজী (৩৫), আলাউদ্দিন সরদার (৩৫) ও মোস্তফা (৫৫)। তারা সবাই গলাচিপা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের শাহজালাল রাইস মিলের শ্রমিক। নির্যাতনের শিকার রাইস মিল শ্রমিক সরদার রহিম খা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, কথিত পীরের কাছ থেকে রুটি পড়া এনে চোর সন্দেহে তাকে রুটি খাওয়ায় গরুর মালিক কুদ্দুস প্যাদা। একই সঙ্গে তার শ্রমিকদের পড়ানো রুটি খাওয়ানো হয়। এর কিছুক্ষন পরে তিনি সহ শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পরে। পরে তাদের ওপর শুরু হয় নির্যাতন মারধর। এসময় তারা চেতনা হারিয়ে ফেলে। পরের ঘটনা তারা আর বলতে পারেন না। স্থানীয় শত শত মানুষের সামনেই চলে এই কর্মযজ্ঞ। রহিম খা আরও বলেন, আমাকে অটো রাইস মিলের ভিতর থেকে সোহাগ প্যাদা সহ আরো ২০/৩০ জন লোক একত্রিত হয়ে টেনে হিচড়ে নিয়ে আসে। আমার কাছে শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের ৭৫ হাজার টাকা ছিলো। ঘটনার পর থেকে সেই টাকা ও তার ব্যবহৃত মোবাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন আমরা নির্দোষ, নিরীহ শ্রমিক। বিনা দোষে আমাদের এমন নির্যাতন করলো। এখন আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।’ এদিকে প্রত্যাক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কুদ্দুস প্যাদার গোয়াল থেকে ছয়টি গরু চুরি হয়েছে। সেই গরু চুরির সন্দেহে রবিবার ওই শ্রমিকদের ধরে পীরের পড়ানো রুটি খাওয়ানো হয়। পরে পীরের নিদের্শ অনুযায়ী মাথায় ১০১ কলস পানি ঢেলে গোসল করানো হয়। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই শ্রমিকদের গলাচিপা থানা পুলিশের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে গরুর মালিক কুদ্দুস প্যাদা বলেন, আমি গলাচিপা পৌরসভার প্যানেল মেয়র বাবু সুশীল বিশ্বাস, কাউন্সিলর সুমন মিয়া ও কাউন্সিলর আবুল খায়ের বাবলু এবং ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সালমা বেগমের স্বাক্ষর নিয়ে হুজুরের কাছে যাই। তাদের সুপারিশেই হুজুর আমাকে ডিম ও রুটি পড়া দেয়। তাদের সামনেই এই ডিম ও রুটি পড়ার তদবীর চালাই। এ বিষয়ে শাহজালাল অটো রাইস মিলের মালিক মঞ্জু ফকির, সোহরাব তালুকদার ও সাহেব আলী বলেন, শ্রমিকরা এখন সকলে সুস্থ আছে। বরিশালে যাকে পাঠানো হয়েছে সে সুস্থ হয়ে গলাচিপা এসেছে। বাকিরা গলাচিপা হাসপাতালে আছে। তারাও অনেকটা সুস্থ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী আবদুল মমিন বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার পর প্রাথমিক লক্ষণ দেখে মনে হয়েছে শ্রমিকদের যে রুটি খাওয়ানো হয়েছে তাতে ফুট পয়জনিং ছিলো। এছাড়া ওই অবস্থায় তাদের শরীরে একাধিকবার পানি দেয়ায় ঠান্ডাজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে যায়।’ এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ বিষয়ে জানতে কাউন্সিলরদের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।