নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি
মাদকবিরোধী অভিযান, অভিযানেই সীমাবদ্ধ! অথচ নরসিংদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভেতরেই চলছে মাসোয়ারার নামে নিয়মিত টাকার বাণিজ্য। আইন অনুযায়ী যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর থাকার কথা ছিল স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা—তারা আজ নিজেরাই পরিণত হয়েছেন মাসোয়ারা বাণিজ্যের গোপন নায়কে।
সূত্র বলছে, নিয়মিতভাবে কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে তালিকার বাইরে রাখা হচ্ছে। কেননা তারা ‘নির্দিষ্ট অংকের মাসোয়ারা’ পৌঁছে দিচ্ছেন অধিদপ্তরের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার টেবিলে। আর যারা মাসোয়ারা দিতে অস্বীকৃতি জানায়—তাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে কথিত অভিযান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, "মাসে মাসে টাকা দিলেই আপনি 'মাদক ব্যবসায়ী' থেকেও নিরাপদ! আর না দিলেই হয়েই গেলেন টার্গেট। এ যেন নাটকের চিত্রনাট্য, যেখানে আইন নিজেই বিক্রি হয়ে গেছে।"
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার ভেতরে এ ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত বাণিজ্য বন্ধ না হলে মাদক নিয়ন্ত্রণের আশা শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
জেলা শহরের এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, যেখানে আইন রক্ষাকারী সংস্থাই অনিয়মে জড়িত, সেখানে জনগণের ভরসা কোথায় যাবে? এই অনিয়ন্ত্রিত ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের দাবি। না হলে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে যাবে।
