
সানজিদুল হক, সাতক্ষীরা
*১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ও ৩৭ মেট্রিক টনের বেশি গমের বরাদ্দ—বাস্তবায়িত হয়েছে যত্রতত্র ভাবে।
* রেজুলেশন অনুযায়ী ১নং ইট দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও কাজ হয়েছে নিম্নমানের ইট দিয়ে।
* ১০০% কাজ করলে আমার মেম্বার কি খাবে?আর আমি পি আই ও কে কিভাবে পিসি দিব? – প্যানেল চেয়ারম্যান ২নং নাগরঘাটা -শিব পদ মন্ড
* কোন প্রকল্পে হরি লুট হয়েছে আপনি আমাকে জানান আমি জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিব- পি আই ও আশরাফ আলী-তালা
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার পাঁচটি ইউনিয়নে টি-আর কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পে হরিলুট পরিলক্ষিত হয়েছে। সরেজমিনে প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে এসব চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূএে জানা যায়,পাটকেলঘাটা থানাধীন ৫ টি ইউনিয়নে টি-আর কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে ১ম,২য়,৩য় পর্যায়ে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ আসে,খাদ্যে শস্যের মূল্য সংযুক্ত করে সর্বমোট ১ কোটি ৮৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩ শত ৪২ টাকা ১৪ পঁয়সা।এর ভেতর ১নং ধানদিয়া ইউনিয়ন বরাদ্দ পায় ২৫লাখ ৯৩ হাজার নগদ অর্থ ও ৫.৯০০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য।২ নং নগরঘাটা ইউনিয়ন বরাদ্দ পাই ২৪ লাখ ২৪ হাজার নগদ অর্থ ও ৫.৮ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য। ৩নং সরুলিয়া ইউনিয়ন বরাদ্দ পায় ৬০ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪শত ২ টা ১৪ পয়সা নগদ অর্থ ও ১০.৮৭০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য। ৪ নং কুমিরা ইউনিয়ন বরাদ্দ পায় ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার ৫ শত টাকা নগদ অর্থ ও ৫.৮ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য।৯ নং খলিশখালী ইউনিয়ন বরাদ্দ পায় ২৯ লক্ষ ৯৫ হাজার নগদ অর্থ ও ৯.১৭২ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য।
সরেজমিনে প্রকল্পগুলো দেখতে গেলে, দেখা যায় রেজুলেশনেই প্রকল্প কর্মকর্তা পুকুর চুরি করেছে। যেখানে ১ লক্ষ টাকায় ৭ ফুট প্রস্থের ২৩০ ফুট দৈর্ঘ্যর ইটের সোলিং মাটিসহ করা যায়, সেখানে প্রকল্প কর্মকর্তা রেজুলেশন করেছে ৭ ফুট বাই ২০৬ ফুট।আর বাস্তবায়িত হয়েছে তারও অনেক কম।
প্রকল্প কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি যোগসাজশে এই দূর্নীতি করে সরকারী বরাদ্দ, এভাবে হরিলুট করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ধানদিয়া ৫ পাড়া মোসলেম সর্দারের বাড়ি হতে গফফার শেখের জমি অভিমুখে মাটিসহ ইটের সোলিংকরণ ও সেনেরগাতী আকবরের বাড়ির পাশ হতে মনিরুলের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা মাটিসহ সোলিং করণে বরাদ্দ দেয় ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।রেজুলেশন অনুযায়ী ৭ ফুট বাই ১১০০ ফুট রাস্তা করার কথা থাকলেও, বাস্তবায়িত হয় ৬.৫ বাই ৯০০ ফুট এবং রাস্তায় ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে।রেজুলেশন অনুযায়ী রাস্তা কম কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ধানদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এই প্রতিবেদককে জানান, আমি পি. আই. ও কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দিয়েছি এবং ইউএনও নিজে পরিদর্শন করে গেছেন। ৩০ শে জুন ২০২৫ তারিখে টাকা উওোলন করে রাস্তা করেছেন, কিভাবে এতোদ্রুতো রাস্তাটি নষ্ট হয়ে গেলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান এটা বিলের রাস্তা,, এখানে ট্রলি চলার কারনে রাস্তাটি ভেঙে গেছে।এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কৃষক নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে এই প্রতিবেককে জানান,রাস্তাটির কাজ করার সময় নিচে বালু পরিমানমতো দেয়নি তাছাড়া সোলিং এর দুইধারে ঠিকমতো মাটি না দেওয়াই রাস্তাটি ১ মাস পার হতে না হতেই ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।
২নং নগরঘাটা ইউনিয়নে গাবলতা নতুন মসজিদ হতে বাজন্দারপাড়া অভিমুখে রাস্তা মাটিসহ ইটের সোলিং করন এ বরাদ্দ দেয় ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা। ১০১ মিটার রাস্তাটি করার কথা থাকলেও, রাস্তাটির কাজ হয়েছে ৭০ মিটার। এ বিষয়ে পি,আই,সি রফিকুল গাজী জানান , আমি চেয়ারম্যানকে কাজটি বুঝিয়ে দিয়েছি। প্যনেল চেয়ারম্যান শিবপদ মন্ডল জানান আমি পি.আই.ও সাহেবকে বুঝিয়ে দিয়েছি। তিনি আরও জানান ১০০% কাজ করলে আমার মেম্বার কি খাবে,আর আমি পি. আই.ও কে কিভাবে পি.সি দেবো।তিনি এই প্রতিবেদককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার অপচেষ্টা করেন।
৩নং সরুলিয়া ইউপি-তৈলকূপী রিশীপাড়া থেকে রাজন্দ্রপুর অভিমুখে মাটিসহ ইটের সোলিং করনে বরাদ্দ হয় ৪ লক্ষ টাকা। এই রাস্তাটি ১ নং ইট দিয়ে ৭ ফুট বাই ৮২৪ ফুট রাস্তা করার কথা থাকলেও, নিম্নমানের ইট দিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে ৭২০ ফুট রাস্তা। রাস্তাটির বিষয়ে জানতে চাইলে পি.আই.সি ও প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদ রানা জানান , রাস্তাটি যদিও একটু কম হয়ে গেছে। তবে কাজটি পরবর্তীতে করে দেবো।
৯ নং খলিশখালী ইউনিয়নে – মোকসেদপুর প্রাইমারী স্কুল থেকে খলিশখালী অভিমুখে মাটিসহ ইটের সোলিংকরনে বরাদ্দ হয় ৭ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। রেজুলেশন অনুযায়ী ১নং ইট দিয়ে ১৬১০ ফুট রাস্তা করার কথা থাকলেও নিম্নমানের ইট দিয়ে বাস্তববায়িত হয়েছে অনেক কম এবং যএতএভাবে রাস্তাটি করেছেন। রাস্তাটির পি.আই.সি ও ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান আমি পি. আই.ও কে জানিয়ে ১৫০০ ফুট রাস্তা করেছি।
টি আর কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে হরিলুট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এই প্রতিনিধিকে উল্ট প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, কোন প্রকল্পে হরিলুট হয়েছে আপনি আমাকে জানান,, আমি জনপ্রতিনিধিদেরকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিবো।কাজ বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব আপনার,আমি কেনো জানাবো এ প্রশ্নের জবাবে, পি.আই.ও জানান বিগত ইউএনও শেখ মো:রাসেল স্যার নিজে তদন্তে গিয়েছিলেন ,আমি আর যায়নি। আপনি ১২% কমিশনে সকল বিলের চেক ছেড়ে দিচ্ছেন, জনপ্রতিনিধিদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কোন কমিশন নেই না,তবে আমার সহকারীরা কিছু নয়/শয় করে।
Reporter Name 
























