
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’র নিরাপত্তা প্রহরী গোলাম হোসেন (কোডনং-০৯৩১৬)এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নরসিংদীতে তিতাস গ্যাসের শতাধিক অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন গোলাম হোসেন। তার বিরুদ্ধে গুরুতর আরেকটি অভিযোগ তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন না। অফিসে আসলেও সঠিক সময়ে হাজির হন না।
ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা প্রহরী গোলাম হোসেন। গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শ্রমিক লীগ সমর্থিত সিবিএ’র সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন ফারুকের ছত্রছায়ায় চলতেন গোলাম হোসেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হওয়ার পর আবার তিনি বিএনপি সমর্থিত তিতাস গ্যাস জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীরের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম চালু রেখেছেন।
অবৈধ গ্যাস সংযোগ, এবং তিতাস গ্যাসের কনডেনসেট তেল বিক্রি, মিটার টেম্পারিং, অভিযানে জব্দকৃত পুরাতন স্ক্রাব বিক্রিসহ নানাভাবে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে নরসিংদী এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল ৫ তলা ভবন প্রায়ই বিদেশ ভ্রমণে যান তিনি।তার একমাত্র ছেলে স্বাধীন বাপের অবৈধ উপার্জনের টাকায় রাজার হালে চলেন। ব্যবহার করেন সাড়ে তিন লক্ষ টাকা মূল্যের আইফোন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়,নরসিংদী সদর উপজেলার বাগহাটা, তালতলা এলাকার কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে গোলাম হোসেন মাসিক বিল আদায় করায় অবৈধ সংযোগের কারণে এলাকার বৈধ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মিটার টেম্পারিং করায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিতাসের কনডেনসেট তেল ও পুরনো লোহার পাইপ স্ক্রাব বাহিরে বিক্রি করে দেয়ায় কোম্পানির লোকসান বাড়ছে।
নরসিংদী অফিসে দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ প্রদান এবং বৈধ আবাসিক সংযোগে অবৈধ ভাবে চুলা বৃদ্ধি করে ও নরসিংদী তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে মিটার টেম্পারিং করে মোটা অংকের অর্থ উপার্জন, নরসিংদী ডিআরএস থেকে আসা কনডেন্সড তেল বাহিরে বিক্রি, নরসিংদী অফিসের বিল্ডিং নাটসেট এর কাজ করার পর পুরাতন মালামাল লোহার গ্রীল দরজা সহ বিভিন্ন মালামাল বাইরে বিক্রি সহ বিভিন্ন সময়ে তিতাস গ্যাসের অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর যে সকল স্ক্রাব, লোহার পাইপ গ্রাহকের আঙ্গিনা থেকে আনা হয়েছিল সেই মালামাল ডেমরা ভান্ডারে জমা দেওয়ার জন্য অফিস থেকে বাহির করে ৪০ টন লোহা বিক্রি করে দেয় এবং অবশিষ্ট মাল ভান্ডারে জমা দিয়ে মালামালের গেট পাশের স্বাক্ষর নিয়ে এসেছেন।
এভাবে বিগত দেড় দশকে নিরাপত্তা প্রহরী গোলাম হোসেন অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব এলাকায়। অবৈধ রোজগারের টাকা দিয়ে স্ত্রী সন্তানদের নামে বিঘায় বিঘায় চাষের জমি কিনেছেন। তিতাস গ্যাসের একজন নিরাপত্তা প্রহরী হয়েও চলাচল করেন রাজার হালে। অবৈধ অর্থের দাপটে ধরা কে সরা জ্ঞান করেন। তিতাস গ্যাসের নরসিংদী অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী গোলাম হোসেন সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট শাহাজী বাজার অফিসে বদলি হয়েছেন।
তিতাস গ্যাসের শাহাজি বাজার ডিআরএসের ম্যানেজার সাইফুজ্জামান সানিকে ম্যানেজ করে সেখানে বসেও চালাচ্ছেন এসব অপকর্ম।তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বেশ কিছু অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে নিরাপত্তা প্রহরী গোলাম হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি প্রতিবেদককে জানান, আপনার সাথে আমার লোক যোগাযোগ করবে।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’র নিরাপত্তা ডিভিশনের উপমহাব্যবস্থাপক মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন পূর্বে তাকে নরসিংদী তিতাস গ্যাসের অফিস থেকে বদলি করে সিলেট শাহাজী বাজার পোস্টিং করা হয়েছে, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Reporter Name 
























