
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে স্কুলে ঢুকে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের হাইদ চকিয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও স্থানীয়রা এতে অংশ নেন।
এদিকে, ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার প্রতিবাদে ফটিকছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। তারা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সিনিয়র শিক্ষক রতন কান্তি চৌধুরীকে ইট দিয়ে আঘাত করেন রাশেদ চৌধুরী (৫০)। এ সময় প্রধান শিক্ষক সুনব বড়ুয়া বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় প্রধান শিক্ষককে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত রাশেদ চৌধুরী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরীর ভাতিজা। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও ফটিকছড়ি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেন।
প্রধান শিক্ষকের এক আত্মীয় জানান, ঘটনাটি তাকে(প্রধান শিক্ষককে) শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। রাতেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, অপমানজনিত ধাক্কা থেকে শিক্ষকের স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে।
অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যালয়-সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাশেদ ও রতন কান্তি চৌধুরীর মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আহম্মদ বলেন, “আসামি আমাদের হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হচ্ছে।”
Reporter Name 





















