
এফ,এম,এ রাজ্জাক পাইকগাছা ( খুলনা)
পাইকগাছা সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের বেসরকারি ক্লিনিক পরকিয়া’: গরিব রোগীরা ভোগান্তির শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও রোগীকে যথাযথভাবে দেখেন না। বরং নানা অজুহাতে রোগীদের ব্যক্তিগত বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। তাই সরকারি ডাক্তারদের বেসরকারি ক্লিনিক পরকিয়ায় গরিব ও প্রান্তিক মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকের নিজস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। সামান্য রোগের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো হয়, যা প্রায়শই তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন করতে হয়। এতে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জরুরি সেবা বা অপারেশনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা— হাসপাতালে সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অস্ত্রোপচার সীমিত করা হয়, যাতে রোগীকে তাদের ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হতে হয়।
শুধু চিকিৎসক নন, নার্সদের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা জানান, ডাকলেও অনেক সময় নার্সদের খুঁজে পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলেও রূঢ় ব্যবহার এবং চা–নাস্তার বিল দাবি করার মতো অনৈতিক আচরণ দেখা যায়। মোছা রোকসানা, একজন রোগী বলেন, “আমার ছোট মেয়ের জ্বর নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম, কিন্তু ডাক্তাররা এখানে ঠিকমতো দেখেনি। পরের দিন আমাকে তাদের ক্লিনিকে যেতে বলল, সেখানে আবার খরচ হয়েছে।”
খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের তরুন কুমার হালদার , বলেন, “সরকারি হাসপাতাল সাশ্রয়ী হওয়া উচিত, কিন্তু ডাক্তাররা এখানে সময় না দিয়ে ক্লিনিকে রোগী নিয়ে যাচ্ছেন। গরিবদের চিকিৎসায় এটা একটা বড় সমস্যা।”হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মৎস্যজীবী আবদুল করিম বলেন, “আমার স্ত্রী প্রসব ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু ডাক্তার বললেন, এখানে সিজার করা সম্ভব নয়, ক্লিনিকে যেতে হবে। টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক কষ্ট হয়েছে।”অন্য এক রোগীর স্বজন রফিকুল ইসলাম জানান, “ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যে পরীক্ষাগুলো করিয়েছে, তার অর্ধেকই পরে অন্য ডাক্তারের কাছে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ হয়েছে।”
এমন পরিস্থিতিতে গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন। সচেতন মহল মনে করে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে জরুরি তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্য নিতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 





















