প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১:৫৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১৬, ২০২৫, ৬:১৩ এ.এম
মুক্তাগাছায় এক কিশোর কে পিটিয়ে হত্যা
![]()
এস এম আরমান উদ্দিন, ক্রাইম রিপোর্টার
কাঠের মিলের চেড়া কাঠ দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে এই ছেলেটিকে। সে গরিব এক অটো চালক। ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির সাথে এক দোকানদারের সুসমপর্ক। তার কাছে ৩৫০ টাকা দেনা পাওনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। দোকানদারের হয়ে নালিশ করতে ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ডেকে পাঠিয়েছিলেন যার কাছে টাকা পাওনা সেই ইয়াছিন, ইয়াছিনের বাবা মজনু মিয়াকে। সাথে ছিল চাচাতো ভাই অটোচালক রাসেল।
কাঠের মিলের চেড়া কাঠ দিয়ে পিতা, পুত্র, আর ভাতিজাকে বেধরক পেটায় ছাত্রদলের ইউনিয়ন সভাপতি এবং কর্মীরা।
পিটুনিতে শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফেটে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে অটোচালক রাসেল মারা যায়। পিতা, পুত্র কোনও রকমে বেঁচে আছে। ঘটনাটা ঘটেছে মুক্তাগাছার মানকোনে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি'র নিজের উপজেলা মুক্তাগাছা। খাতিরদারি রক্ষা করতে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে ছাত্রদল। আমরা এই যুগে এসে পৌঁছেছি। জমিদারি আমলে এইরকম ঘটনা ঘটেছে মুক্তাগাছায়।
দেশে নয়া জমিদারদের আবির্ভাব হয়েছে। নতমুখে আমাদের হাত জোড় করে চলার দিন এখন। পাড়ার বিএনপি নেতা থেকে শুরু করে বড়ো নেতাদের কাছে। কদিন আগে ফেসবুকে পোস্ট করায় রাতে বাড়ি গিয়ে বয়োবৃদ্ধ পিতাকে শাসিয়ে ছাত্রদল নেতারা সেটা লাইভ করেছিলেন, বলেছিলেন যেখানে পাবেন, সেখানে বিচার করবেন। আমরা ছাত্রদলের বিচারের ট্রায়াল দেখলাম।
এই যে বোন তাঁর জগতের সব দরদ মিশিয়ে বলছে, 'তোমারে এই যে এমনে করে মারলো গো!' এই দরদের হাহাকার ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই! লাশ রাস্তায় নিয়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছে। তাতে ইন্টেরিমের আর কি আসে যায়! পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখনও আসামি গ্রেফতার হয় নি।
যদি হয়ও, ছাড়া পেতেও কি সময় লাগবে খুব? আজ খুন হয়ে যাওয়া ফাহিমের নয় মাসের কন্যাটির কথা ভেবে লজ্জায় নীল হবে না কেউ! ফাহিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে না, মধ্যবিত্তের স্মার্ট সন্তান না, তাঁর মৃত্যুতে আমাদের এই সমাজে কারোর কিছু আসে যায় না। এই খুন নিয়ে তাই কোনও আওয়াজও উঠে নি। কেবল পিতৃহন্তারকদের মাঝে একটু একটু বেড়ে উঠতে হবে ফাহিমের ন'মাস বয়সী কন্যার। কেবল সেই মনে রাখবে, তাঁরও পিতা ছিল।

Design and Developed by: Manobadhikar IT