
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
জুলাই বিপ্লবে হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল কিশোরগঞ্জ। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে জাতীয় সংসদের বেশিরভাগ নির্বাচনেই কিশোরগঞ্জে ছিল আওয়ামী লীগের অধিপত্য। এমনকি দেশ পরিচালনায় দুজন রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, দলের সাধারণ সম্পাদক, প্রভাবশালী মন্ত্রী, সেনাবাহিনী প্রধান, প্রধান বিচারপতি, পুলিশের আইজিসহ সরকারের গুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এ জেলার বরেণ্য ব্যক্তিরা।
তবে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে পাল্টে গেছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত হাওড় অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের রাজনীতির চিত্র। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। তবে এখনও এসব হিসাবের বাইরে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর হামলা-হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অসংখ্য মামলা মাথায় নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের শতশত নেতাকর্মী। এ অবস্থায় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলের মনোনয়ন পেতে মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।
অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের মাঠে নিজেদের সক্ষমতা জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রকাশ্যে রাজনীতির মাঠে কাজ করার সুযোগ পাওয়া জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে ৬টি আসনে মনোনয়নের জন্য একক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। একজন করে প্রার্থী নির্বাচন করছে অন্য কয়েকটি ইসলামি দলও। তবে মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা বিএনপির ঘর এখনও অগোছালো। মনোনয়ন দৌড়ে প্রতিটি আসনে মাঠে আছেন অন্তত ১০ জন করে সম্ভাব্য প্রার্থী। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারলেই জয় অনেকটা সহজ হবে বলে বিশ্বাস তাদের।
১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ৬টি নির্বাচনি এলাকা। এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আসন সংখ্যা ছিল ৭টি। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতটি আসনের মধ্যে ৫টিতে জয়ী হয় বিএনপি। আওয়ামী লীগ পায় ২টি। পরের বার ১৯৯৬ সালে ঠিক উল্টো অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ৫টি ও বিএনপি জয় পায় ২টি আসনে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয় ২টি আসনে। আওয়ামী লীগ আবারও জয়ী হয় ৫টি আসনে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ৫টি আসনেই জয় পায় আওয়ামী লীগ। একটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয় জাতীয় পার্টির নেতা মুজিবুল হক চুন্নুকে।
ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দল হিসেবে সবকটি আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামি দলগুলো এবার চমক দেখাতে পারে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, বিএনপি একটি জনসম্পৃক্ত দল। তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের দলে শক্ত ভিত্তি রয়েছে। নেতার সংখ্যা বেশি, তাই অনেকেই মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে-সবাই তার হয়ে কাজ করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জেলার সবকটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয় পাবেন। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ রমজান আলী বলেন, নির্বাচনের জন্য আমাদের দল প্রস্তুত রয়েছে। সবকটি আসনে আমরা সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছি। তারা মাঠে কাজ করছে। আমরা আশা করছি নির্বাচনে ভালো ফলাফল পাব। কিশোরগঞ্জ-০১ (কিশোরগঞ্জ ও হোসেনপুর)
কিশোরগঞ্জ জেলা সদর ও পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসন। এখান থেকে দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মাসুদ হিলালী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল হোসাইন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঈম ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানী, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ আবু তাহের মিয়া।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী দলের সাবেক জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক মোসাদ্দেক ভূঁইয়াকে আগামী নির্বাচনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফকে এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে এই আসনে মাঠে গণসংযোগ করছেন আবু হানিফ।
এ ছাড়া মাঠে আছেন খেলাফত মজলিসের একক প্রার্থী শায়খুল হাদিস মাওলানা হিফজুর রহমান খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক প্রার্থী প্রফেসর আজিজুর রহমান জার্মানি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ জামী। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থী মো. আবু হানিফ বলেন, ‘মানুষ আর গতানুগতিক নির্বাচন দেখতে চায় না। তারা পরিবর্তন চায়। তাই আসন্ন ভোটে আমাদের দলের প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করবে বলে আশা করি। একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জেলা কমিটির উপদেষ্টা মাওলানা আজিজুল হক জার্মানি বলেন, হাসিনার পতনের পর সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জে আমাদের দলের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার পাশাপাশি এলাকার মৌলিক পরিবর্তনে কাজ করব।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া) এই আসনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন মেজর অব. এম আখতারুজ্জামান। এরপর থেকে আসনটি হাতছাড়া হয় বিএনপির। তখন শুধু কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে ছিল এই আসন। পরে পাকুন্দিয়া উপজেলাকে যুক্ত করা হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাকন, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কটিয়াদী পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ, পাকুন্দিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমদ ফারুক খোকন প্রমুখ। বিএনপি নেতারা মনে করেন, সততা, মেধা ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে এমন কাউকে এই আসনে দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। যুবনেতা আশরাফ মামুন বলেন, ২০১২, ২০১৩, ২০১৫, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৩ সালে গ্রেফতারের পর প্রতিবার পুলিশ নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পুলিশের গুলিতে ভাগ্যক্রমে চোখ বেঁচে যায়। ২০১৫ সালে গুম করা হয়। সে সময় ক্রসফায়ারে দিতে চেয়েছিল।
আমার বৃদ্ধ মা ভেবেছিলেন, তার ছেলে আর ফিরে আসবে না। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, রাজনীতি আমার জন্য ক্ষমতার সিঁড়ি নয়। রাজনীতি আমার কাছে মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটার অঙ্গীকার। এলাকার জনগণের পাশে থেকে কিছু করতে চাই। আশা করি দলও মূল্যায়ন করবে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা ছাঈদ আহমদ, গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা রশীদ আহমদ জাহাঙ্গীর হোছাইনী এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ ও তাড়াইল) এ আসনের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক এবং জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। আংশিক হাওড় অধ্যুষিত করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে-ময়দানে গণসংযোগের পাশাপাশি চলছে নানা লবিং। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস ও করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) প্রফেসর অধ্যাপক ডা. জেহাদ খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রভাষক আতাউর রহমান শাহান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক ভোটারদের মন জয় করতে আগাম প্রচার চালাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) জেলার সম্পূর্ণ হাওড় অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের কিশোরগঞ্জ-৪ আসন। সংসদীয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একবার ছাড়া বাকি নির্বাচনে আসনটি দখলে ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের। ভোটের কারসাজিতে এ আসন থেকে বারবার পরাজিত হয়েছেন, বিএনপির প্রভাবশালী নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। এবার তিনি এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক জেলা প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম মোল্লা, কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপির নেতা ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী লাকী, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি সুরঞ্জন ঘোষ, সাবেক উপ-সচিব জহির উদ্দিন ভূঁইয়ার নাম শোনা যাচ্ছে।
জামায়াতের প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা সিটির উত্তর শাখার আইন বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা অলিউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী বিল্লাল আহমেদ মজুমদার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শায়খ মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রচার চালাচ্ছেন। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রভাবশালী সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। ইকবাল ছাড়াও সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হচ্ছেন বাজিতপুর
পৌরসভার সাবেক পৌর মেয়র এহসান কুফিয়া, অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, শফিকুল আলম রাজন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হাজী মাসুক মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ বদরুল আলম শিপু, অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল ও সাবেক সচিব আবদুল ওয়াহাব। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় আরও কয়েকজন নেতা এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ রমজান আলী এ আসনে দলের একক সম্ভাব্য প্রার্থী। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আবদুল আহাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইন নূরী ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এই আসনে প্রচার চালাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) দীর্ঘদিন ধরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও পরে তার ছেলে নাজমুল হাসান পাপনের দখলে ছিল এই আসনটি। ফলে বারবার জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, বিএনপির প্রভাবশালী নেতা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শরীফুল আলম। আওয়ামী লীগের শাসনামলে অসংখ্য মিথ্যা মামলা, হামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এই নেতা। সমানতালে পালন করছেন কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির দায়িত্ব। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে এখন পর্যন্তবিএনপির অন্য কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর না শোনা যাচ্ছে না।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলটির ভৈরব উপজেলার আমির মাওলানা মোহাম্মদ কবীর হোসাইন। এ ছাড়া নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা লাইস উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাহেল, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ মুছা খান এলাকায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
Reporter Name 



















