
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
গত বছরের ৫ই আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আন্দোলনে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল দৃষ্টিগোচর। স্বৈরাচার পতনের পর নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ও অধ্যয়নরত ছাত্রদের সমন্বয়ে সংগঠনের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত (১৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আওতাধীন বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসায় ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।চট্টগ্রামের ফটিকছড়িরও বিভিন্ন কলেজে ছাত্র দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।জেলা ছাত্রদলের প্যাডে অনুমোদিত এসব কমিটিতে স্বাক্ষর করেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি এবং সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল। কমিটিগুলোকে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করে জেলা দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে ঘোষিত কমিটির কয়েকজন নেতার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত সভাপতির পদে থাকা কাউছার ফরহাদ ওরফে কে এফ সাইমুনকে ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০১৮ সালে ডিগ্রি পাস এবং পরবর্তীতে ২০২০-২১ সেশনে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। এর পর দীর্ঘ সময় কলেজে অনুপস্থিত থাকার পর ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর হঠাৎ কলেজে সক্রিয় হয়েছেন।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলছে সমালোচনার ঝড়। শহীদুল ইসলাম নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা স্পেশাল পোস্ট।” অন্যদিকে এম এ আবছার লিখেছেন, “যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাদের দায়িত্ব নিতে লজ্জা করে না!”এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বেলাল উদ্দিন মুন্না বলেন, “কেউ যদি তথ্য গোপন করে কমিটিতে আসে তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাইমুনের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই জানি। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক এইচ এম সাইফুদ্দীন বলেন, “যার ছাত্রত্ব নেই তাকে কলেজ কমিটির দায়িত্ব দেওয়ার কোনো অর্থ নেই। কে এফ সাইমুন ডিগ্রি পাস করেছেন এ বিষয়ে সবাই অবগত। নেতৃত্ব দিতে হবে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের।”অভিযোগ উঠেছে, সদ্য ঘোষিত এই কমিটির অনেক সদস্য পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফটিকছড়ি পৌরসভা ছাত্রদলের নেতা তানভীর বলেন, “৫ আগস্টের আন্দোলনের পর তারা ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।”
ফটিকছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেদের কাছে সাইমুনের ছাত্রত্ব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত, পরে কথা বলবো।” তবে পরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি। অভিযোগ প্রসঙ্গে কে এফ সাইমুন ছাত্রত্ব না থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি কোন বর্ষে অধ্যয়ন করছেন এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
Reporter Name 
























