Dhaka 10:58 pm, Sunday, 18 January 2026

মৎস্য উৎপাদন ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে চাষিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:44:14 am, Monday, 18 August 2025
  • 312 Time View
 দীনেশ চন্দ্র রায়, পাইকগাছা, খুলনা
নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছার মৎস্য চাষিরা। রোগ বালাই সহ বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে ও উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এখানকার মৎস্য চাষিরা। মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী অত্র এলাকা থেকে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২৭ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য। যার মধ্যে চিংড়ী,  সাদা মাছ,  কাঁকড়া ও কুচিয়া অন্যতম।
সূত্র অনুযায়ী ৮০’র দশকের পর হতে উপকূলীয় এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয় সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ী চাষ। সুন্দরবন সংলগ্ন এ অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল ও জলাশয়, ফলে এ অঞ্চল মৎস্য চাষের জন্য সমৃদ্ধ হওয়ায়। চিংড়ী চাষ ব্যবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অন্যান্য পেশে থেকে সবাই এগিয়ে আসতে থাকে চিংড়ী চাষে। বিগত ৪ দশকের ব্যবধানে এ অঞ্চলের বেশির ভাগ মৎস্য চাষ এবং সংশ্লিষ্ট এ খাতের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। যদিও শুরুটা যতটা সহজ ছিল, এখন অতটা সহজ নেই চিংড়ী চাষ ব্যবস্থা। সময়ের সাথে সাথে একদিকে যেমন বেড়েছে রোগ বালাই সহ নানা সমস্যা। তেমনি চাষ ব্যবস্থায় ও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন।
আগে সনাতন পদ্ধতি, এখন উন্নত সনাতন ব্যবস্থা সহ চিংড়ী কিংবা মৎস্য চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করছে চাষিরা। ফলে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ও মৎস্য চাষ ব্যবস্থা কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এখানকার চাষিরা। প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সহ চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করছে মৎস্য দপ্তর ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যদিও চিংড়ী চাষের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং  ও সরকারের সর্বাত্মক সহোযোগিতা প্রয়োজন বলে করে এখানকার চাষিরা। মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী অত্র উপজেলায় মৎস্য উৎপাদন ও আহরণের যেসব উৎস আছে তারমধ্যে রয়েছে অন্যতম হচ্ছে মৎস্য ঘের। যার বর্তমান সংখ্যা ৮ হাজার ৫৮০ টি, দীঘি এবং পুকুর রয়েছে ৪ হাজার ৩৫৩টি, বাণিজ্যিক মৎস্য খামার রয়েছে ৪টি, ভেনামী চিংড়ী খামার রয়েছে ১ টি, নদ-নদী রয়েছে ১০ টি, খাল ১৩২ টি, কাঁকড়া খামার ১৭ হাজার ৭৫ টি এবং গলদা খামার ২২৫ টি। এসব উৎস থেকে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২৭ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য। যার মধ্যে চিংড়ী ৫ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন, সাদা মাছ ১৮ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন, কাঁকড়া ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন ও কুচিয়া ২০.৭৫ মেট্রিক টন। মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি সরুপ অত্র এলাকার একাধিক চিংড়ী চাষি পেয়েছেন জাতীয় মৎস্য পুরস্কার। এবছর ও জাতীয় মৎস্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন অত্র এলাকার চিংড়ী চাষি গোলাম কিবরিয়া রিপন। ” দেশী মাছে দেশ ভরি, অভায়শ্রম গড়ে তুলি ” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর আজ ১৮ আগস্ট সোমবার থেকে শুরু জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫।
ঢাকার চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধনী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নিকট থেকে সম্মাননা গ্রহণ করবেন চিংড়ী চাষি গোলাম কিবরিয়া রিপন। এদিকে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সপ্তাহ ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। যার মধ্যে রয়েছে র‍্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, মাছের পোনা অবমুক্ত, সফল মৎস্য চাষি, ব্যক্তি, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান কে সম্মাননা প্রদান, মৎস্য সম্পদের, স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন এবং সর্বোত্তম ব্যবহার শীর্ষক অংশীজনদের সাথে মতবিনিময়, মৎস্য সেক্টরের অগ্রগতি বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, পুকুর জলাশয়ের পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান, মৎস্য খাতে টেকসই উন্নয়ন তরুণদের ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা, মৎস্যজীবিদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ এর মূল্যায়ন ও সমাপনী।
Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

দিনাজপুরের হিলিতে ডাঃ জাহিদ হোসেনের কুশল বিনিময়

মৎস্য উৎপাদন ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে চাষিরা

Update Time : 04:44:14 am, Monday, 18 August 2025
 দীনেশ চন্দ্র রায়, পাইকগাছা, খুলনা
নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছার মৎস্য চাষিরা। রোগ বালাই সহ বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে ও উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এখানকার মৎস্য চাষিরা। মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী অত্র এলাকা থেকে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২৭ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য। যার মধ্যে চিংড়ী,  সাদা মাছ,  কাঁকড়া ও কুচিয়া অন্যতম।
সূত্র অনুযায়ী ৮০’র দশকের পর হতে উপকূলীয় এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয় সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ী চাষ। সুন্দরবন সংলগ্ন এ অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল ও জলাশয়, ফলে এ অঞ্চল মৎস্য চাষের জন্য সমৃদ্ধ হওয়ায়। চিংড়ী চাষ ব্যবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অন্যান্য পেশে থেকে সবাই এগিয়ে আসতে থাকে চিংড়ী চাষে। বিগত ৪ দশকের ব্যবধানে এ অঞ্চলের বেশির ভাগ মৎস্য চাষ এবং সংশ্লিষ্ট এ খাতের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। যদিও শুরুটা যতটা সহজ ছিল, এখন অতটা সহজ নেই চিংড়ী চাষ ব্যবস্থা। সময়ের সাথে সাথে একদিকে যেমন বেড়েছে রোগ বালাই সহ নানা সমস্যা। তেমনি চাষ ব্যবস্থায় ও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন।
আগে সনাতন পদ্ধতি, এখন উন্নত সনাতন ব্যবস্থা সহ চিংড়ী কিংবা মৎস্য চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করছে চাষিরা। ফলে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ও মৎস্য চাষ ব্যবস্থা কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এখানকার চাষিরা। প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সহ চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করছে মৎস্য দপ্তর ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যদিও চিংড়ী চাষের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং  ও সরকারের সর্বাত্মক সহোযোগিতা প্রয়োজন বলে করে এখানকার চাষিরা। মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী অত্র উপজেলায় মৎস্য উৎপাদন ও আহরণের যেসব উৎস আছে তারমধ্যে রয়েছে অন্যতম হচ্ছে মৎস্য ঘের। যার বর্তমান সংখ্যা ৮ হাজার ৫৮০ টি, দীঘি এবং পুকুর রয়েছে ৪ হাজার ৩৫৩টি, বাণিজ্যিক মৎস্য খামার রয়েছে ৪টি, ভেনামী চিংড়ী খামার রয়েছে ১ টি, নদ-নদী রয়েছে ১০ টি, খাল ১৩২ টি, কাঁকড়া খামার ১৭ হাজার ৭৫ টি এবং গলদা খামার ২২৫ টি। এসব উৎস থেকে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২৭ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য। যার মধ্যে চিংড়ী ৫ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন, সাদা মাছ ১৮ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন, কাঁকড়া ৩ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন ও কুচিয়া ২০.৭৫ মেট্রিক টন। মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি সরুপ অত্র এলাকার একাধিক চিংড়ী চাষি পেয়েছেন জাতীয় মৎস্য পুরস্কার। এবছর ও জাতীয় মৎস্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন অত্র এলাকার চিংড়ী চাষি গোলাম কিবরিয়া রিপন। ” দেশী মাছে দেশ ভরি, অভায়শ্রম গড়ে তুলি ” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর আজ ১৮ আগস্ট সোমবার থেকে শুরু জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫।
ঢাকার চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধনী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নিকট থেকে সম্মাননা গ্রহণ করবেন চিংড়ী চাষি গোলাম কিবরিয়া রিপন। এদিকে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সপ্তাহ ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। যার মধ্যে রয়েছে র‍্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, মাছের পোনা অবমুক্ত, সফল মৎস্য চাষি, ব্যক্তি, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান কে সম্মাননা প্রদান, মৎস্য সম্পদের, স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন এবং সর্বোত্তম ব্যবহার শীর্ষক অংশীজনদের সাথে মতবিনিময়, মৎস্য সেক্টরের অগ্রগতি বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, পুকুর জলাশয়ের পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান, মৎস্য খাতে টেকসই উন্নয়ন তরুণদের ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা, মৎস্যজীবিদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫ এর মূল্যায়ন ও সমাপনী।