
রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজার থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার “মওলানা ভাসানী সেতু” (চিলমারী-হরিপুর) অবশেষে উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেতুর উত্তর প্রান্তে ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এর আগে তিনি রংপুর থেকে সড়ক পথে সুন্দরগঞ্জ হয়ে সেতুস্থলে পৌঁছান। পরে উদ্বোধনের পর তিনি সেতু ঘুরে গোলচত্বর এলাকায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) গাইবান্ধা, স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক মাহমুদুল হাসান এনডিসি, উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবুল হাসান, সহকারী একান্ত সচিব আয়মন হাসান রাহাত, জনসংযোগ কর্মকর্তা সালাউদ্দিন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম ভূঁইয়াসহ আরও অনেকে।
এদিকে উদ্বোধনের আগেই সেতুটি দেখতে ভিড় জমায় গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার হাজারো মানুষ। প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ দুই প্রান্তে সমবেত হয়। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে ভিড় করেন। বিপুল জনসমাগম সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ, সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
সেতুটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ঘাট থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত বিস্তৃত। দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৯০ মিটার, প্রস্থ ৯ দশমিক ৬০ মিটার, মোট লেন ২টি এবং স্প্যান বসানো হয়েছে ৩১টি। এটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মিত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সেতু। চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) ও ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি)। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীশাসন এবং অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৩৩ একর জমি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ সেতু চালু হওয়ার ফলে গাইবান্ধা-কুড়িগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহন সহজ হবে, গড়ে উঠতে পারে শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। সৃষ্টি হবে হাজারো কর্মসংস্থান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।
সেতুর উদ্বোধনের পর দুই জেলার মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। অনেকে মনে করছেন, এই সেতু শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, বরং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও গতিশীলতা বাড়াবে এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে এটি এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে ।
Reporter Name 



















