Dhaka 10:58 am, Monday, 19 January 2026

হোটেলের কাজ করেও পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রাখছেন কালাইয়ের নাসরিন

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:50:10 am, Saturday, 23 August 2025
  • 216 Time View
মোঃ সামিউল হক সায়িম, স্টাফ রিপোর্টার
জয়পুরহাট জেলাধীন কালাই উপজেলার বৈরাগীহাট মোড়ে ছোট পরিসরে প্রায় ৬ বছর ধরে নাসরিন আক্তার (১৮) নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁর বাবার হোটেলে খাবার তৈরি এবং হোটেল পরিচালনা করছেন। ১২ বছর আগে হোটেলটি চালু করেছিলেন তাঁর বাবা মোকাব্বর মন্ডল (৫৫)। নাসরিন এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছিলেন জিপিএ-৫। তিনি বর্তমানে উপজেলার কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। নাসরিন এই হোটেল চালিয়েই সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালান। বাবাকে সাহায্য করতেই এই মেধাবী শিক্ষার্থী চালিয়ে যাচ্ছেন খাবার হোটেলটি।
নিজেই তৈরি করছেন সামোচা, মোগলাই, চানাচুর, পুরি, পিঁয়াজু, সিঙ্গারা। রান্না করছেন ভাত, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের তরকারি। আবার নিজেই করছেন খাবার পরিবেশন। স্বল্প মূল্যে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করায় বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রাহকরা ছুটে আসেন তাঁর বাবার হোটেলে। খাবার খেতে আসা গ্রাহকরা বলছেন এই হোটেলের খাবার দামে কম মানে ভালো ও সুস্বাদু। হোটেলে খাবার খেতে আসা ট্রাক চালক হাফিজুল ইসলাম এর থেকে জানা যায়, তাঁর বাড়ি বগুড়া। তিনি এই এলাকায় মাঝে মধ্যেই আসেন। এই হোটেলে খাবারের মান ভালো এবং রান্নাটাও অনেক ভালো।
এছাড়া খাবার খেতে আসা মোখলেছুর রহমান, আমির হোসেন, আবুল কাশেমসহ অনেকে জানান, তাদের মাঝে মধ্যেই এইদিকে কাজের প্রয়োজনে আসতে হয়।  অনেক সময় খাবার দরকার হলে তাঁরা এই হোটেলে বসেন। কারণ এই মেয়ে অনেক শান্ত ও ভদ্র। খাবারের মানও ভাল। নাসরিন হোটেলের পাশের মুদি দোকানি জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের হোটেলে আর্থিক সমস্যার কারণে তাঁরা কোনো কারিগর বা মেসিয়ার রাখতে পারেন না। তাই মেয়ে হয়েও সে তার বাবার হোটেলের  যাবতীয় সবকিছু বানায়। সে পড়াশোনায়ও মেধাবী ছাত্রী।’
কলেজ শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার জানান, তিনি মাধ্যমিকে কোনো প্রকার প্রাইভেট পড়েননি। এখন বর্তমানে তিনি কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী। তিনি ভোরবেলায় হোটেলের কাজ করে কলেজে যান। আবার কলেজ ছুটি দিলে বিকাল ৩ টার দিকে চলে আসেন এবং বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত হোটেলের এসব কাজ করেন। অর্থের যোগান দিতে না পাড়ায় মা-বাবার কাজে সাহায্যের জন্য এগুলো কাজ করতে হয় তাকে।
নাসরিন আক্তারের বাবা মোকাব্বর মন্ডল বলেন, ‘আমার মেয়ে কালাই মহিলা কলেজে পড়ে। সকালে হোটেলে কাজ রেখে যায়। আবার কলেজ থেকে ফিরে রাত প্রায় ১০ টা পর্যন্ত সে কাজ করে। আমি গরিব মানুষ কোনো কারিগর রাখতে পারি নাই। আমার মেয়েই সহযোগিতা করে।’কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘সে তার বাবার হোটেলে কাজ করে লেখাপড়া চালায়। মেয়েটা খুব মেধাবী। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হচ্ছে।’ এছাড়া আগামী দিনে নাসরিন তার স্বপ্ন পূরণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘বৈরাগীর মোড়ে নাসরিন হোটেলে নাসরিন নামে যে মেয়েটির কথা শুনলাম, সে তার পড়ালেখার পাশাপাশি বাবার সাথে হোটেলে কাজ করছে। এটা একটা চমৎকার উদ্যোগ। তবে তার পড়ালেখার যেনো ক্ষতি না হয় এই কাজটা করতে যেয়ে। সেজন্য তাকে যতটুকু আর্থিক সহযোগিতা আমাদের উপজেলা প্রশাসন থেকে করা প্রয়োজন সেটা আমরা করবো।’
Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে: রুমিন ফারহানা

হোটেলের কাজ করেও পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রাখছেন কালাইয়ের নাসরিন

Update Time : 07:50:10 am, Saturday, 23 August 2025
মোঃ সামিউল হক সায়িম, স্টাফ রিপোর্টার
জয়পুরহাট জেলাধীন কালাই উপজেলার বৈরাগীহাট মোড়ে ছোট পরিসরে প্রায় ৬ বছর ধরে নাসরিন আক্তার (১৮) নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁর বাবার হোটেলে খাবার তৈরি এবং হোটেল পরিচালনা করছেন। ১২ বছর আগে হোটেলটি চালু করেছিলেন তাঁর বাবা মোকাব্বর মন্ডল (৫৫)। নাসরিন এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছিলেন জিপিএ-৫। তিনি বর্তমানে উপজেলার কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। নাসরিন এই হোটেল চালিয়েই সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালান। বাবাকে সাহায্য করতেই এই মেধাবী শিক্ষার্থী চালিয়ে যাচ্ছেন খাবার হোটেলটি।
নিজেই তৈরি করছেন সামোচা, মোগলাই, চানাচুর, পুরি, পিঁয়াজু, সিঙ্গারা। রান্না করছেন ভাত, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের তরকারি। আবার নিজেই করছেন খাবার পরিবেশন। স্বল্প মূল্যে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করায় বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রাহকরা ছুটে আসেন তাঁর বাবার হোটেলে। খাবার খেতে আসা গ্রাহকরা বলছেন এই হোটেলের খাবার দামে কম মানে ভালো ও সুস্বাদু। হোটেলে খাবার খেতে আসা ট্রাক চালক হাফিজুল ইসলাম এর থেকে জানা যায়, তাঁর বাড়ি বগুড়া। তিনি এই এলাকায় মাঝে মধ্যেই আসেন। এই হোটেলে খাবারের মান ভালো এবং রান্নাটাও অনেক ভালো।
এছাড়া খাবার খেতে আসা মোখলেছুর রহমান, আমির হোসেন, আবুল কাশেমসহ অনেকে জানান, তাদের মাঝে মধ্যেই এইদিকে কাজের প্রয়োজনে আসতে হয়।  অনেক সময় খাবার দরকার হলে তাঁরা এই হোটেলে বসেন। কারণ এই মেয়ে অনেক শান্ত ও ভদ্র। খাবারের মানও ভাল। নাসরিন হোটেলের পাশের মুদি দোকানি জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের হোটেলে আর্থিক সমস্যার কারণে তাঁরা কোনো কারিগর বা মেসিয়ার রাখতে পারেন না। তাই মেয়ে হয়েও সে তার বাবার হোটেলের  যাবতীয় সবকিছু বানায়। সে পড়াশোনায়ও মেধাবী ছাত্রী।’
কলেজ শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার জানান, তিনি মাধ্যমিকে কোনো প্রকার প্রাইভেট পড়েননি। এখন বর্তমানে তিনি কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী। তিনি ভোরবেলায় হোটেলের কাজ করে কলেজে যান। আবার কলেজ ছুটি দিলে বিকাল ৩ টার দিকে চলে আসেন এবং বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত হোটেলের এসব কাজ করেন। অর্থের যোগান দিতে না পাড়ায় মা-বাবার কাজে সাহায্যের জন্য এগুলো কাজ করতে হয় তাকে।
নাসরিন আক্তারের বাবা মোকাব্বর মন্ডল বলেন, ‘আমার মেয়ে কালাই মহিলা কলেজে পড়ে। সকালে হোটেলে কাজ রেখে যায়। আবার কলেজ থেকে ফিরে রাত প্রায় ১০ টা পর্যন্ত সে কাজ করে। আমি গরিব মানুষ কোনো কারিগর রাখতে পারি নাই। আমার মেয়েই সহযোগিতা করে।’কালাই সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘সে তার বাবার হোটেলে কাজ করে লেখাপড়া চালায়। মেয়েটা খুব মেধাবী। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হচ্ছে।’ এছাড়া আগামী দিনে নাসরিন তার স্বপ্ন পূরণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘বৈরাগীর মোড়ে নাসরিন হোটেলে নাসরিন নামে যে মেয়েটির কথা শুনলাম, সে তার পড়ালেখার পাশাপাশি বাবার সাথে হোটেলে কাজ করছে। এটা একটা চমৎকার উদ্যোগ। তবে তার পড়ালেখার যেনো ক্ষতি না হয় এই কাজটা করতে যেয়ে। সেজন্য তাকে যতটুকু আর্থিক সহযোগিতা আমাদের উপজেলা প্রশাসন থেকে করা প্রয়োজন সেটা আমরা করবো।’