
রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কবি, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা স্থানীয়ভাবে জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার চেয়েছি। কিন্তু রাষ্ট্র সে অধিকার দেয়নি। রাষ্ট্র ঢাকায় বসে সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ রাষ্ট্র আমার করের টাকায় চলে, কিন্তু তার কোনো সুফল আমি পাই না।”
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে বেঁচে থাকার পথ দেখাচ্ছে। এর মূলমন্ত্র হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকতে হবে। তরুণদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। মত ও চিন্তা এক নয়—চিন্তা করাটাও একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া।”
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, “দেশে একটি গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা ভেবে দেখেছি কি, কেবল একটি সরকার পালিয়ে গেলেই কি গণ-অভ্যুত্থান হয়? জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে? পুলিশ, প্রশাসন বা স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কী বদল এসেছে? যদি পরিবর্তন না আসে তবে গণ-অভ্যুত্থানের সার্থকতা কোথায়?”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। জনগণ এমন প্রশাসন চায়, যারা তাদের চাহিদা ও সিদ্ধান্তকে স্থানীয়ভাবে মূল্যায়ন করবে। ঢাকা থেকে চাপিয়ে দেওয়া শাসন কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে। জনগণের বিপক্ষে যায় এমন আইনও জনগণ চায় না।”
আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন জ্ঞানতরু সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নেসার উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন রাজ্জাকুল হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দৈনিক সমকালের ফিউচার এডিটর শাহরিন আরাফাত, জুলাই যোদ্ধা আব্দুল মঈন, অধ্যাপক আব্দুল বাড়ি, মাওলানা মিজানুর রহমান, ইকবাল হোসেন চাঁদ প্রমুখ।
Reporter Name 
























