
মোস্তাক আহমেদ (বাবু) রংপুর
তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর ধানক্ষেত থেকে মাসুদ মিয়া (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পীরগাছা থানা পুলিশ। নিহত মাসুদ উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের পশ্চিম ব্রাহ্নিকুন্ডা এলাকার মৃত রঞ্জু মিয়ার ছেলে। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকলে ৫নং ছাওলা ইউনিয়ন ও ৪নং অন্নদানগর ইউনিয়নের সংযোগস্থল আমপাইকর বাজার সংলগ্ন ফারুক মাস্টারের ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের দাবি ও প্রেক্ষাপট:
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যরা জানান, মাসুদের বাবা রঞ্জু মিয়ার মৃত্যু পর তার মা সাদ্দাম হোসেন নামের একজন আত্মীয়কে বিয়ে করেন। এরপর তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই মাসুদ বড় হতে থাকে। কয়েক দিন আগে ঢাকায় থেকে মাসুদ গ্রামের বাড়িতে আসে। জানা গেছে, কিছুদিন আগে মাসুদের খালা ও দূর সম্পর্কের ফুফু রিনা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী সৈয়দ আলীর পারিবারিক বিরোধ হয়। ওই বিরোধের জেরে হওয়া এক মামলায় সৈয়দ আলী মাসুদকে প্রধান আসামি করেন। মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতেই মাসুদ গ্রামে এসেছিলেন।
শেষবার দেখা:
নিহতের দাদির বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মাসুদকে ধানক্ষেতের পাশেই দেখা যায়। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন দূর সম্পর্কের ফুফাতো ভাই রিয়াদ মিয়া। ঘটনাস্থলে মাসুদকে কথা বলতে দেখেন চাচা রফিকুল ইসলাম ও মজিবর মিয়া। তাদের প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বলেন, “রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে আছি, কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি যাচ্ছি।” এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
পুলিশের বক্তব্য:
পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোমেল বড়ুয়া জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। নিহতের পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
স্থানীয়দের শঙ্কা:
স্থানীয়রা এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন।
সতর্কীকরণ:
এই রিপোর্টে কিছু স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে। অনুগ্রহ করে পাঠকেরা সংবেদনশীলতা বজায় রেখে বিষয়টি বিবেচনা করুন।
Reporter Name 






















