মো:আল-আমিন, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পতিতাবৃত্তি ও মানবপাচারের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নিমাইকান্দি এলাকার জাকিরের বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চাপিতলা গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে শাহ পরান (২১), মুরাদনগর দক্ষিণপাড়ার খাইরুল ইসলামের ছেলে নাঈম আহমেদ (১৮), রানীমুহুরী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে রাকিব (১৮), চাপিতলা গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে রুমা আক্তার (১৯), রানীমুহুরী গ্রামের সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী ও বর্তমানে ওই বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া সাদিয়া (১৯) এবং নবীপুর পশ্চিম পাড়ার কবির হোসেনের মেয়ে নুরুন্নাহার (২০)।
এ ঘটনায় হোমনা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর আখন্দপাড়ার বাসিন্দা খাদিজা আক্তার (৪০) বাদী হয়ে মোট ৮ জনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার মূল আসামি লুনা আক্তার ও তার স্বামী বিল্লাল হোসেন অভিযান শুরুর আগেই পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল ও লুনা দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মানবপাচার ও পতিতাবৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একই অভিযোগে তারা একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মানবপাচার চক্রের মূল হোতা বিল্লাল ও তার স্ত্রী লুনাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।” পুলিশের এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।