Dhaka 6:26 am, Friday, 9 January 2026

পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে লামা ইউএনওকে ঘিরে বিতির্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:41:30 pm, Wednesday, 7 January 2026
  • 54 Time View
নিজম্ব প্রতিবেদক  মোহাম্মদ সুমন বান্দরবান 
বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন এবং তাঁর অফিস সহকারী (পিএস) মো. সোহেলের বিরুদ্ধে প্রতিটি ইটভাটা থেকে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধ ইটভাটা চালু রাখার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন ও উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী (পিএস) মো. সোহেলের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দাবি করছেন প্রতিটি ইটভাটা থেকে ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন ৫০ হাজার টাকা এবং তাঁর পিএস সোহেল ৫ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। ভিডিওতে অভিযোগকারী নিজেকে মামুন বলে পরিচয় দেন। তিনি ফাইতং ইউনিয়নের লম্বাশিয়া এলাকার একটি ব্রিকফিল্ডের মালিক এবং তাঁর বাড়ি চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে।
ভিডিওটির বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। লামা উপজেলায় আমিই প্রথম ইউএনও, যিনি সাতটি ইটভাটা ভেঙে দিয়েছেন।” এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পিএস ও উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী মো. সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভিডিওতে আমার এবং ইউএনও স্যারের নাম বলা হলেও আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই।
তবে ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিস সহকারী সোহেল ইউএনওর ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবেই পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউএনও অফিসের এক কর্মচারী জানান, ভূমি রেজিস্ট্রেশন–সংক্রান্ত ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ বালুর নিলাম এবং ইটভাটা থেকে অর্থ আদায়ের কাজ মূলত সোহেলই করে থাকেন। বর্তমান ইউএনও যোগদানের পর থেকেই তিনি এই অদৃশ্য ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন ওই কর্মচারী।
এছাড়া ইটভাটার একাধিক মালিক অভিযোগ করে বলেন, লামা উপজেলার প্রায় সব ইটভাটা থেকেই ইউএনও মো. মঈন উদ্দিনের নামে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে, যা আদায় করেছেন তাঁর ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত সোহেল। এ ছাড়া সোহেল নিজেও আলাদাভাবে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করেছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। ভিডিওতে যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তাঁকে ডাকা হবে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে লামাবাসী।
Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

তিতাস গ্যাসের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে উত্তরা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক

পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে লামা ইউএনওকে ঘিরে বিতির্ক

Update Time : 03:41:30 pm, Wednesday, 7 January 2026
নিজম্ব প্রতিবেদক  মোহাম্মদ সুমন বান্দরবান 
বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন এবং তাঁর অফিস সহকারী (পিএস) মো. সোহেলের বিরুদ্ধে প্রতিটি ইটভাটা থেকে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধ ইটভাটা চালু রাখার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন ও উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী (পিএস) মো. সোহেলের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দাবি করছেন প্রতিটি ইটভাটা থেকে ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন ৫০ হাজার টাকা এবং তাঁর পিএস সোহেল ৫ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। ভিডিওতে অভিযোগকারী নিজেকে মামুন বলে পরিচয় দেন। তিনি ফাইতং ইউনিয়নের লম্বাশিয়া এলাকার একটি ব্রিকফিল্ডের মালিক এবং তাঁর বাড়ি চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে।
ভিডিওটির বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। লামা উপজেলায় আমিই প্রথম ইউএনও, যিনি সাতটি ইটভাটা ভেঙে দিয়েছেন।” এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পিএস ও উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী মো. সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভিডিওতে আমার এবং ইউএনও স্যারের নাম বলা হলেও আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই।
তবে ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিস সহকারী সোহেল ইউএনওর ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবেই পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউএনও অফিসের এক কর্মচারী জানান, ভূমি রেজিস্ট্রেশন–সংক্রান্ত ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ বালুর নিলাম এবং ইটভাটা থেকে অর্থ আদায়ের কাজ মূলত সোহেলই করে থাকেন। বর্তমান ইউএনও যোগদানের পর থেকেই তিনি এই অদৃশ্য ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন ওই কর্মচারী।
এছাড়া ইটভাটার একাধিক মালিক অভিযোগ করে বলেন, লামা উপজেলার প্রায় সব ইটভাটা থেকেই ইউএনও মো. মঈন উদ্দিনের নামে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে, যা আদায় করেছেন তাঁর ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত সোহেল। এ ছাড়া সোহেল নিজেও আলাদাভাবে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করেছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। ভিডিওতে যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তাঁকে ডাকা হবে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে লামাবাসী।