
মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
দেশের সম্প্রচার খাতকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে এবং বিভিন্ন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুসংগঠিত ও তদারকি করতে সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ শীর্ষক একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে। খসড়ায় সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট অনিয়মের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বর্তমানে এ খসড়া অধ্যাদেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। আগ্রহীরা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত প্রদান করতে পারবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, টেরিস্ট্রিয়াল, স্যাটেলাইট ও ক্যাবল টেলিভিশন ও রেডিও, আইপি টিভি ও রেডিও, ডিটিএইচ, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, স্ট্রিমিং ও ভিডিও অন ডিমান্ড—সবকিছুই সম্প্রচার মাধ্যমের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত অনলাইন ইনফোটেইনমেন্ট পোর্টাল, অ্যাপস ও ভিডিও স্ট্রিমিং কার্যক্রমও এই আইনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা অপেশাদার কনটেন্ট এ অধ্যাদেশের বাইরে রাখা হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স ও কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে লাইসেন্স নেওয়ার আগে কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ না করে সম্প্রচার চালালেও একই শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
জাতীয় ইস্যু বা জনস্বার্থে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি অনাপত্তি ছাড়াই সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন গোপন সামরিক বা বেসামরিক তথ্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা এক থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাজি ও জুয়া, তামাকজাত ও মদজাতীয় পণ্য কিংবা বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
খসড়া অধ্যাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয়, আদালত, সেনানিবাস ও কেপিআইভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্য কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এ ছাড়া এ অধ্যাদেশের আওতায় আরোপিত সব অর্থদণ্ড ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-১৯১৩’ অনুযায়ী আদায় করা হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, সম্প্রচার সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। একজন বিচারকের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে এবং জেলা ও দায়রা জজদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ দেবে সরকার। মামলার সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা যাবে। অভিযোগ গঠনের পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকবে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, সরকার একটি সম্প্রচার কমিশন গঠন করবে। কমিশনের মূল দায়িত্ব হবে সরকারি ও বেসরকারি সম্প্রচার কার্যক্রমকে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা, সম্প্রচার বিষয়বস্তুর মানদণ্ড ও নীতিমালা প্রণয়ন করা এবং সেসব নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন তদারকি করা। এর মাধ্যমে তথ্যের অবাধ, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।
কমিশন সম্প্রচার লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সরকারকে সুপারিশ করবে, সম্প্রচারকারীদের জন্য আচরণবিধি, এসওপি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করবে এবং সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করবে। কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সরকারের কাছে আপিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।
Reporter Name 









