Dhaka 4:34 am, Thursday, 12 March 2026

তিতাস গ্যাসের ডিজিএম প্রকৌশলী শেখ মনজুর আহমেদের বিরুদ্ধে -দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:03:39 am, Sunday, 8 February 2026
  • 133 Time View

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর ময়মনসিংহ অঞ্চলে কর্মরত উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী শেখ মনজুর আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্যাস খাত সংশ্লিষ্ট মহল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে শেখ মনজুর আহমেদ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

লিখিত অভিযোগে যেসব গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

১. নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান, গ্যাসের লোড বৃদ্ধি, ইডিসি মিটার স্থাপন এবং মিটার টেম্পারিং সংক্রান্ত কাজে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

২. গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী, জামালপুর, ভালুকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগের ঠিকাদারি কাজ নিজের প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

৩. জামালপুর ইপিজেড এলাকায় গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং মনোয়ারা সিএনজি ডটার ফিলিং স্টেশনের গ্যাস সংযোগ কাজে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

৪. অভিযোগপত্র অনুযায়ী, উপরোক্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন।

৫. অভিযোগে আরও বলা হয়, শেখ মনজুর আহমেদের নামে এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট বা ফ্ল্যাট, উত্তরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং একটি ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় শত কোটি টাকার কাছাকাছি, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা একান্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী শেখ মনজুর আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং দুদক ও পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো তদন্ত কমিটিই তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি সৎভাবে কাজ করছি। আমাকে খাটো করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের নোংরামি করা হচ্ছে। আমি কখনোই এ ধরনের কাজে জড়িত ছিলাম বলে মনে করি না।”
তবে তার বক্তব্যে কিছুটা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত হিসাব যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগকারী হিসেবে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছেন মোঃ জাকারিয়া সুমন। তার ঠিকানা—নান্দাইল, ময়মনসিংহ।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, তিতাস গ্যাস খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর খাতে এ ধরনের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা দ্রুত তদন্ত, দোষীদের চিহ্নিতকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Admin1 Admin1

জনপ্রিয়

প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার এনআইডি সংশোধন আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে

তিতাস গ্যাসের ডিজিএম প্রকৌশলী শেখ মনজুর আহমেদের বিরুদ্ধে -দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন

Update Time : 05:03:39 am, Sunday, 8 February 2026

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর ময়মনসিংহ অঞ্চলে কর্মরত উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী শেখ মনজুর আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্যাস খাত সংশ্লিষ্ট মহল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে শেখ মনজুর আহমেদ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

লিখিত অভিযোগে যেসব গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

১. নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান, গ্যাসের লোড বৃদ্ধি, ইডিসি মিটার স্থাপন এবং মিটার টেম্পারিং সংক্রান্ত কাজে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

২. গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী, জামালপুর, ভালুকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগের ঠিকাদারি কাজ নিজের প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

৩. জামালপুর ইপিজেড এলাকায় গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং মনোয়ারা সিএনজি ডটার ফিলিং স্টেশনের গ্যাস সংযোগ কাজে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

৪. অভিযোগপত্র অনুযায়ী, উপরোক্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন।

৫. অভিযোগে আরও বলা হয়, শেখ মনজুর আহমেদের নামে এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট বা ফ্ল্যাট, উত্তরা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং একটি ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় শত কোটি টাকার কাছাকাছি, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা একান্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী শেখ মনজুর আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং দুদক ও পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো তদন্ত কমিটিই তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি সৎভাবে কাজ করছি। আমাকে খাটো করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের নোংরামি করা হচ্ছে। আমি কখনোই এ ধরনের কাজে জড়িত ছিলাম বলে মনে করি না।”
তবে তার বক্তব্যে কিছুটা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত হিসাব যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগকারী হিসেবে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছেন মোঃ জাকারিয়া সুমন। তার ঠিকানা—নান্দাইল, ময়মনসিংহ।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, তিতাস গ্যাস খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর খাতে এ ধরনের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা দ্রুত তদন্ত, দোষীদের চিহ্নিতকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।