মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গন ভোটের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। রাত পোহালে জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষিত ভোট। আর এই ভোট সুস্থ ভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর অবস্থান। এ জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার বিজিবি সহ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকবে সরব ও কঠোর অবস্থান। এ ছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন ছাড়াও সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তদারকি করবেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারা বুধবার সকাল থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে নিজ নিজ কেন্দ্রে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র গুলোতে নেওয়া হয়েছে সিসি ক্যামেরা সহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা । সাতক্ষীরা- ৩ (কালিগঞ্জ -আশাশুনি ) আসনে ভোটের পরিবেশ কেমন থাকবে সেই দিকেই এখন সবার দৃষ্টি। প্রার্থীদের সকল প্রকার প্রচার, প্রচারণা শেষ হয়েছে গত মঙ্গলবার। এ আসনে কালীগঞ্জ এবং আশাশুনি উপজেলার ২৩ টি ইউনিয়ন মিলে মোট২৬৫ টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে। মোট ভোটার ৫,০২,২২২ জন ,এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২,৫৩,৯৮৪ জন, নারী ভোটার ২,৪৮,২৩৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার আছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ ১৮ দিন প্রচার প্রচারণায় প্রার্থীরা নানান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এখন চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায়। সাতক্ষীরা- ৩ (কালিগঞ্জ আশাশুনি) আসনে ভোটের মূল যুদ্ধ হবে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ২ জন ছিল মনোনয়নের দাবিদার । ওনারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন ,অপরজন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গরিবের ডাক্তার খ্যাত ডাঃ শহিদুল আলম। এর মধ্যে বিএনপি'র দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান কাজী আলাউদ্দিন। ডাঃ শহিদুল আলম বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ায় ফুঁসে ওঠে কালীগঞ্জ -আশাশুনি- উপজেলার মানুষ। তার মনোনয়নের দাবিতে রাস্তায় নেমে হাজার ,হাজার দলীয় কর্মী সমর্থক ছাড়াও জনতা নেতাকর্মী ভক্তরা টানা ১৭ দিন এক নাগাড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, আন্দোলন সংগ্রাম ও চালাতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসায় বিএনপি'র চেয়ারপার্সন তারেক জিয়ার আশ্বাসে আন্দোলন থেমে গেলেও মনোনয়নের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। যে কারণে সাধারণ জনতার সমর্থন এবং চাপে ডাঃ শহিদুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। যে কারণে কালিগঞ্জ এবং আশাশুনি উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এই বহিষ্কারে ক্ষুব্ধ হয়ে বহিষ্কৃত এবং সাধারণ, অসহায়, গরিব, ভ্যান চালক ,রিকশাচালক সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সৎ এবং যোগ্য প্রার্থী ডাঃ শহিদুল আলমের পক্ষে ফুটবল নিয়ে গরিবের ডাক্তার খ্যাত শহিদুল আলমের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে দুই উপজেলায় সাধারণ জনগণের প্রতিক হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন। তিনি বিএনপি করার কারণে সরকারি চাকরি ছেড়ে দীর্ঘ ৪০ বছর এই সাতক্ষীরা অঞ্চলের মানুষের আর্থিক সহায়তা সহ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাধারণ, গরিব অসহায় মানুষের মন জয় করে মনে স্থান করে নিয়েছে। সে মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সমর্থক ,ভক্ত ও সাধারণ জনগণ তাকে প্রার্থী করে জনগণের প্রার্থী এবং ফুটবল প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তিনিও বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণা সভায় দেশের গণতন্ত্র রক্ষা এবং এই অঞ্চলের মানুষকে চাঁদাবাজ ,দখলবাজ এবং সন্ত্রাস মুক্ত এলাকা করে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে বিএনপি'র প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন বিগত ২০০১ সালে বিএনপির জামায়াত ভঙ্গুর জাতীয় পার্টি সহ চারদলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী হয়ে জাতীয় পার্টির এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনিও নির্বাচনী বিভিন্ন প্রচার ,প্রচারণা সভায় নিজেকে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে বিগত দিনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কালিগঞ্জ আসাশুনি উপজেলার বিভিন্ন নির্বাচনী, উঠান বৈঠক সভা ,সমাবেশে বক্তৃতা করেন। তিনিও এ নির্বাচনে শতভাগ জয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কিন্তু বিএনপি'র অধিকাংশ নেতাকর্মীরা ডাঃ শহিদুল আলমের ভক্ত হওয়ায় ডাঃ শহীদুল আলম সহ বিএনপি থেকে অনেকে বহিষ্কৃত হয়। বহিষ্কার এই সমস্ত নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ শহিদুল আলমের পিছু ছাড়ে নাই। তারা ফুটবল প্রতীকের ভোট চেয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে দাপিয়ে বেড়ালেও বিএনপি'র প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ধানের শীষের শতভাগ জয়ের আশাবাদী। অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় শত ভাগ সৎ, এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি সাতক্ষীরার আগোর দাড়ি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসারকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী করে বিভিন্ন নির্বাচনী সভা সমাবেশ শেষ করেছে। সেখানে আল্লাহর আইনে সৎ এবং যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে সর্বস্তরের জনগণের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে তিনিও শতভাগ জয়ের আশাবাদী। রয়েছে নিজস্ব একটি ভোটব্যাঙ্ক সে কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই একক প্রার্থী হিসেবে হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসারকে নিয়ে একক প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন ,কর্মকান্ড চাঁদাবাজ , টেন্ডারবাজ ঘুষ দুর্নীতি ,সন্ত্রাসবাদ, দখলবাজ মুক্ত উপজেলা গড়ার আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের মন জয় করেছেন। তিনিও পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতে জনগণকে আহ্বান জানান। যে কারণে বিএনপি'র এই গৃহ বিবাদ কে কাজে লাগিয়ে এখন সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াত। এরমধ্যে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এডভোকেট আলীপ, সহ ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা অয়েস কুরুনী জয়ের আশাবাদী নিয়ে মাঠে প্রচার প্রচারণায় সাড়া না মেলায় দু,জনকে তেমন দেখা মেলেনি। অন্যদিকে মাইনোরিটি দলের প্রার্থী রুবেল স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ শহিদুল আলমের ফুটবল প্রতীককে সমর্থন জানিয়ে তার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছে। এছাড়াও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ সরাসরি স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ডাঃ শহিদুল আলমের প্রতিটি জনসভায় এবং প্রচার প্রচারণায় অংশ নিয়ে বক্তৃতা করায় ফুটবলের সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনেকের ধারণা। তবে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করায় তাদের এই ভোট ব্যাঙ্ক এবং ভোটারদের সমর্থন, উপস্থিতি নিয়ে রয়েছে অনেক সংশয়। আওয়ামী লীগের এবং সংখ্যালঘুদের ভোট যে প্রার্থী নিজেদের পক্ষে নিতে পারবে সেই দলেরই জয়ের সম্ভাবনা বেশি। সে বিষয়ে অধিকাংশরই ধারণা আওয়ামী লীগের এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ ভোট ডাঃ শহিদুল আলমের ফুটবলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে বৃহস্পতিবারের ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত। এর পরেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে সেই আকাঙ্খিত জয়ের মালা কে পরবে।
