
পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে-কে দক্ষিণ আমেরিকার ডার্ট ব্যাঙে পাওয়া বিরল বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে। তাঁর দেহ থেকে নেওয়া টিস্যু নমুনার পরীক্ষায় এ তথ্য “চূড়ান্তভাবে” নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
যুক্তরাজ্য , ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ড যৌথ বিবৃতিতে জানায়, পরীক্ষায় এপিবাটিডিন (Epibatidine) নামের এক প্রাণঘাতী টক্সিনের উপস্থিতি মিলেছে। এটি দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ডার্ট ব্যাঙ থেকে পাওয়া যায়, তবে ল্যাবরেটরিতেও তৈরি করা সম্ভব।
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে পাঁচ দেশ জানায়, নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে—এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছে, এই বিষ প্রয়োগের “সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ”—সবই রাশিয়ার ছিল।
পাঁচ দেশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি Organisation for the Prohibition of Chemical Weapons (ওপিসিডব্লিউ)-এর কাছে উত্থাপন করছে, যা রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এপিবাটিডিন শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটাতে পারে। ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের ধারণা, নাভালনির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিষটি প্রাকৃতিক নয়, বরং পরীক্ষাগারে তৈরি।
রাশিয়া নাভালনির মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রিয়া নভোস্তিকে বলেন, পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হলে তবেই তারা মন্তব্য করবে। ফলাফল প্রকাশ ছাড়া এসব বক্তব্যকে তিনি “তথ্য ফাঁস” বলে অভিহিত করেন।
রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, নাভালনি হাঁটার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচক নাভালনি ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন, যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভেট কুপার মিউনিখ সম্মেলনে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনির-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নতুন তথ্যকে “ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের প্রমাণ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই অভিযোগ ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Reporter Name 



















