Dhaka 4:02 am, Thursday, 12 March 2026

প্রথমবারের মতো অ্যান্টার্কটিকা সমুদ্রে ক্যামেরায় ধরা পড়ল হাঙর

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:24:23 pm, Wednesday, 18 February 2026
  • 72 Time View

দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন ডেস্ক:

অস্ট্রেলীয় গবেষকদের মতে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ মহাসাগরে (Southern Ocean) একটি হাঙরের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে — যা অ্যান্টার্কটিক সামুদ্রিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হাঙর প্রজাতির অস্তিত্ব কয়েকশো মিলিয়ন বছর ধরে। পৃথিবীর প্রায় সব মহাসাগরেই এদের দেখা মিললেও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায়, যেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যেতে পারে, সেখানে হাঙর দেখা অত্যন্ত বিরল।

উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের মৎস্য আহরণে মাঝেমধ্যে হাঙর ধরা পড়লেও অ্যান্টার্কটিকাকে ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরে সরাসরি পর্যবেক্ষণ খুবই সীমিত। বিশ্বজুড়ে পরিচিত ৫০০–এর বেশি হাঙর প্রজাতির মধ্যে মাত্র পাঁচটি এই অঞ্চলে দেখা গেছে।

গত বছর অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের কাছে অবস্থিত সাউথ শেটল্যান্ড আইল্যান্ড এলাকায় গবেষণা চলাকালে এ ভিডিও ধারণ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার Deep-Sea Research Centre–এর সমুদ্রবিজ্ঞানী ড. জেসিকা কলবুশজ জানান, প্রায় ৪৯০ মিটার গভীরে স্থাপন করা টোপযুক্ত পানির নিচের ক্যামেরায় একটি ধীরগতির হাঙর ধরা পড়ে, যা সম্ভবত ‘স্লিপার শার্ক’ পরিবারের সদস্য।

তিনি বলেন, “দক্ষিণ মহাসাগরে স্বাভাবিক পরিবেশে কোনো স্লিপার শার্ক বা অন্য কোনো হাঙর বা রে মাছের ভিডিও এটিই প্রথম।”

ড. কলবুশ আরও বলেন, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে স্লিপার শার্কের ভিডিও ধারণ করাই বিরল ঘটনা, তাই এই আবিষ্কারটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য স্লিপার শার্ক পরিবারের বিভিন্ন প্রজাতির শারীরিক গঠন প্রায় একই রকম হওয়ায় ভিডিও দেখে নির্দিষ্ট প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গবেষণা অভিযানে সংগৃহীত পানির নমুনা থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই অভিযানে সরাসরি যুক্ত না থাকা চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটির সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী ড. পিটার কাইন বলেন, এটি সম্ভবত সাউদার্ন স্লিপার শার্ক।

তিনি বলেন, “সাউদার্ন স্লিপার শার্ক উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল যেমন ম্যাককুয়ারি আইল্যান্ড বা হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় পরিচিত। তবে অ্যান্টার্কটিকায় এটিই হয়তো প্রথম রেকর্ড।”

স্লিপার শার্ক কী?

স্লিপার শার্ক বড় আকৃতির, ধীরগতির গভীর সমুদ্রের হাঙর। এদের গায়ে ছোপছোপ দাগ থাকে এবং পাখনা তুলনামূলক ছোট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত এদের বিচরণ।

এই পরিবারের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রজাতি হলো—

গ্রিনল্যান্ড শার্ক — উত্তর গোলার্ধে পাওয়া যায়; প্রায় ৪০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

প্যাসিফিক স্লিপার শার্ক — প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত।

সাউদার্ন স্লিপার শার্ক — দক্ষিণ ও উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে বাস করে বলে ধারণা করা হয়।

এই অপ্রত্যাশিত ভিডিও প্রমাণ করে যে, পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল ও দূরবর্তী জলভাগেও এখনও অনেক অজানা প্রাণী লুকিয়ে আছে, যাদের সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো সীমিত।

Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার এনআইডি সংশোধন আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে

প্রথমবারের মতো অ্যান্টার্কটিকা সমুদ্রে ক্যামেরায় ধরা পড়ল হাঙর

Update Time : 12:24:23 pm, Wednesday, 18 February 2026

দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন ডেস্ক:

অস্ট্রেলীয় গবেষকদের মতে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ মহাসাগরে (Southern Ocean) একটি হাঙরের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে — যা অ্যান্টার্কটিক সামুদ্রিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হাঙর প্রজাতির অস্তিত্ব কয়েকশো মিলিয়ন বছর ধরে। পৃথিবীর প্রায় সব মহাসাগরেই এদের দেখা মিললেও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায়, যেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যেতে পারে, সেখানে হাঙর দেখা অত্যন্ত বিরল।

উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের মৎস্য আহরণে মাঝেমধ্যে হাঙর ধরা পড়লেও অ্যান্টার্কটিকাকে ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরে সরাসরি পর্যবেক্ষণ খুবই সীমিত। বিশ্বজুড়ে পরিচিত ৫০০–এর বেশি হাঙর প্রজাতির মধ্যে মাত্র পাঁচটি এই অঞ্চলে দেখা গেছে।

গত বছর অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের কাছে অবস্থিত সাউথ শেটল্যান্ড আইল্যান্ড এলাকায় গবেষণা চলাকালে এ ভিডিও ধারণ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার Deep-Sea Research Centre–এর সমুদ্রবিজ্ঞানী ড. জেসিকা কলবুশজ জানান, প্রায় ৪৯০ মিটার গভীরে স্থাপন করা টোপযুক্ত পানির নিচের ক্যামেরায় একটি ধীরগতির হাঙর ধরা পড়ে, যা সম্ভবত ‘স্লিপার শার্ক’ পরিবারের সদস্য।

তিনি বলেন, “দক্ষিণ মহাসাগরে স্বাভাবিক পরিবেশে কোনো স্লিপার শার্ক বা অন্য কোনো হাঙর বা রে মাছের ভিডিও এটিই প্রথম।”

ড. কলবুশ আরও বলেন, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে স্লিপার শার্কের ভিডিও ধারণ করাই বিরল ঘটনা, তাই এই আবিষ্কারটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য স্লিপার শার্ক পরিবারের বিভিন্ন প্রজাতির শারীরিক গঠন প্রায় একই রকম হওয়ায় ভিডিও দেখে নির্দিষ্ট প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গবেষণা অভিযানে সংগৃহীত পানির নমুনা থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই অভিযানে সরাসরি যুক্ত না থাকা চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটির সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী ড. পিটার কাইন বলেন, এটি সম্ভবত সাউদার্ন স্লিপার শার্ক।

তিনি বলেন, “সাউদার্ন স্লিপার শার্ক উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল যেমন ম্যাককুয়ারি আইল্যান্ড বা হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় পরিচিত। তবে অ্যান্টার্কটিকায় এটিই হয়তো প্রথম রেকর্ড।”

স্লিপার শার্ক কী?

স্লিপার শার্ক বড় আকৃতির, ধীরগতির গভীর সমুদ্রের হাঙর। এদের গায়ে ছোপছোপ দাগ থাকে এবং পাখনা তুলনামূলক ছোট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত এদের বিচরণ।

এই পরিবারের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রজাতি হলো—

গ্রিনল্যান্ড শার্ক — উত্তর গোলার্ধে পাওয়া যায়; প্রায় ৪০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

প্যাসিফিক স্লিপার শার্ক — প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত।

সাউদার্ন স্লিপার শার্ক — দক্ষিণ ও উপ-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে বাস করে বলে ধারণা করা হয়।

এই অপ্রত্যাশিত ভিডিও প্রমাণ করে যে, পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল ও দূরবর্তী জলভাগেও এখনও অনেক অজানা প্রাণী লুকিয়ে আছে, যাদের সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনো সীমিত।