
মোঃ শাহজাহান বাশার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
রমাদান—শব্দটি উচ্চারণ করলেই যেন হৃদয়ে এক অনির্বচনীয় প্রশান্তি নেমে আসে। এটি শুধু একটি মাস নয়; এটি আত্মার পরিশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং মানবিকতার পুনর্জাগরণের এক মহাসুযোগ। পবিত্র Qur’an-এ মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, রমাদান মাসেই নাযিল হয়েছে কুরআন, যা মানবজাতির জন্য পথনির্দেশ। তাই রমাদান হলো হেদায়েত, রহমত ও মাগফিরাতের মাস।
রমাদান আমাদের সংযম শেখায়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণার অনুশীলন নয়; এটি নফসের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা। আমরা যখন রোজা রাখি, তখন শুধু খাবার থেকে নয়—মিথ্যা, গীবত, অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকেও নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করি। এই আত্মনিয়ন্ত্রণই আমাদের চরিত্রকে শাণিত করে।
রমাদানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দান হলো আত্মশুদ্ধির সুযোগ। সারাবছরের ভুল-ত্রুটি, গাফিলতি ও পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার এক সুবর্ণ সময় এটি। হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। তাই এই মাস আমাদের নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা দেয়—একটি পবিত্র, ন্যায়ভিত্তিক ও আলোকিত জীবনের পথে।
রমাদান সামাজিক সম্প্রীতিরও মাস। ধনী-গরিব, বড়-ছোট—সবাই একই সময়ে রোজা রাখে, একই সময় ইফতার করে। ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে আমরা অসহায় মানুষের দুঃখ বুঝতে শিখি। ফলে যাকাত, ফিতরা ও দান-সদকার মাধ্যমে সমাজে সমতা ও সহমর্মিতার চর্চা বাড়ে। ইফতারের টেবিলে যখন পরিবার-পরিজন একত্রিত হয়, তখন ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
এই মাসের সবচেয়ে মহিমান্বিত রাত হলো লাইলাতুল কদর—যে রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রাতে বান্দার দোয়া কবুল হয়, ভাগ্য নির্ধারিত হয়। তাই রমাদানের শেষ দশকে ইবাদতের গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মসজিদগুলোতে তারাবির সুরেলা তিলাওয়াত, কিয়ামুল লাইলের দীর্ঘ সিজদা—সব মিলিয়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
রমাদান আমাদের শেখায়—জীবন ক্ষণস্থায়ী, দুনিয়া পরীক্ষাগার। ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও ত্যাগের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। তাই রমাদান শেষে যেন আমাদের ভেতরের পরিবর্তন স্থায়ী হয়—এই কামনাই হোক সবার।
পরিশেষে বলা যায়, রমাদান কেবল একটি মাস নয়; এটি এক বিপ্লব—আত্মার বিপ্লব, সমাজের বিপ্লব, মানবতার বিপ্লব। আসুন, আমরা রমাদানের শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করি এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণময় সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।
লেখকঃ
মোঃ শাহজাহান বাশার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন
Reporter Name 



















