Dhaka 5:18 am, Thursday, 12 March 2026

রিকশায় চড়ে সংসদে: সাধারণ মানুষের মনিকোঠায় জায়গা করে নিলেন এমপি হানজালা

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:06:03 am, Wednesday, 18 February 2026
  • 213 Time View

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চমক দেখিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন পীরজাদা খ্যাত সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। সাধারণ জীবনযাপন, তৃণমূলভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম এবং রিকশা মার্কা নিয়ে নির্বাচনী লড়াই—সব মিলিয়ে তিনি এখন শিবচরসহ জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে।

সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, যিনি পীরজাদা হানজালা নামে অধিক পরিচিত, একজন ইসলামি পণ্ডিত ও রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর প্রার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন। ১৯৯৭ সালের ২৪ মার্চ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পাচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মুবিন উদ্দিন আহমেদ নওশিন মিয়া এবং দাদা আবুল হাফেজ মোহসেন উদ্দিন আহমদ। পারিবারিকভাবে তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.)-এর সপ্তম বংশধর বলে পরিচিত, যা তার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতিকে আরও দৃঢ় করেছে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ এবং অন্যের জমি আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তার এসব পদক্ষেপে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে তিনি একটি সাহসী ও সক্রিয় নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পান।

তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাকে মাদারীপুর-1 আসনে মনোনয়ন দেয়। তিনি রিকশা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে মোট ১০২টি কেন্দ্রে সাধারণ ভোটে তিনি পান ৬৩ হাজার ৫১১ ভোট এবং পোস্টাল ব্যালটে পান ১ হাজার ৩৯৮ ভোট। সর্বমোট তার প্রাপ্ত ভোট দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ৯০৯।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী নাদিরা আক্তার। তিনি সাধারণ ভোটে পান ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট এবং পোস্টাল ব্যালটে পান ২৩৩ ভোট। সর্বমোট তার প্রাপ্ত ভোট ৬৪ হাজার ৫২৪। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩৮৫, যা এই আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতাকেই তুলে ধরে।

নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার রিকশায় চড়ে এলাকায় চলাচলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে জনসম্পৃক্ততার বার্তা হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন সংসদ সদস্য হয়েও সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করা তার জনপ্রিয়তাকে আরও দৃঢ় করেছে।

নবনির্বাচিত এমপি হানজালা জানিয়েছেন, তিনি শিবচরকে মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনভিত্তিক একটি আধুনিক জনপদে রূপান্তর করতে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় এবারের নির্বাচনে তাকে বিজয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছে।

এখন নজর থাকবে—তিনি জাতীয় সংসদে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে কতটা আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হন।

Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Admin1 Admin1

জনপ্রিয়

প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার এনআইডি সংশোধন আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে

রিকশায় চড়ে সংসদে: সাধারণ মানুষের মনিকোঠায় জায়গা করে নিলেন এমপি হানজালা

Update Time : 10:06:03 am, Wednesday, 18 February 2026

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চমক দেখিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন পীরজাদা খ্যাত সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। সাধারণ জীবনযাপন, তৃণমূলভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম এবং রিকশা মার্কা নিয়ে নির্বাচনী লড়াই—সব মিলিয়ে তিনি এখন শিবচরসহ জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে।

সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, যিনি পীরজাদা হানজালা নামে অধিক পরিচিত, একজন ইসলামি পণ্ডিত ও রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-এর প্রার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন। ১৯৯৭ সালের ২৪ মার্চ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পাচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মুবিন উদ্দিন আহমেদ নওশিন মিয়া এবং দাদা আবুল হাফেজ মোহসেন উদ্দিন আহমদ। পারিবারিকভাবে তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.)-এর সপ্তম বংশধর বলে পরিচিত, যা তার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতিকে আরও দৃঢ় করেছে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে উদ্যোগ এবং অন্যের জমি আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তার এসব পদক্ষেপে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে তিনি একটি সাহসী ও সক্রিয় নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পান।

তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাকে মাদারীপুর-1 আসনে মনোনয়ন দেয়। তিনি রিকশা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে মোট ১০২টি কেন্দ্রে সাধারণ ভোটে তিনি পান ৬৩ হাজার ৫১১ ভোট এবং পোস্টাল ব্যালটে পান ১ হাজার ৩৯৮ ভোট। সর্বমোট তার প্রাপ্ত ভোট দাঁড়ায় ৬৪ হাজার ৯০৯।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী নাদিরা আক্তার। তিনি সাধারণ ভোটে পান ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট এবং পোস্টাল ব্যালটে পান ২৩৩ ভোট। সর্বমোট তার প্রাপ্ত ভোট ৬৪ হাজার ৫২৪। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩৮৫, যা এই আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতাকেই তুলে ধরে।

নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার রিকশায় চড়ে এলাকায় চলাচলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে জনসম্পৃক্ততার বার্তা হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন সংসদ সদস্য হয়েও সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করা তার জনপ্রিয়তাকে আরও দৃঢ় করেছে।

নবনির্বাচিত এমপি হানজালা জানিয়েছেন, তিনি শিবচরকে মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসনভিত্তিক একটি আধুনিক জনপদে রূপান্তর করতে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় এবারের নির্বাচনে তাকে বিজয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছে।

এখন নজর থাকবে—তিনি জাতীয় সংসদে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে কতটা আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হন।