মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না।”
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে পায়ে হেঁটে এসে যোগ দেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পুনরায় পায়ে হেঁটে সচিবালয়ে ফিরে যান। পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির বিকাশই একটি জাতিকে সমৃদ্ধ ও নৈতিক ভিত্তিতে শক্তিশালী করে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার একটি উদার ও নৈতিক মানসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে শিক্ষা ও গবেষণা অগ্রাধিকার পাবে।
তিনি আরও বলেন, “একটি রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হবে। তাই রাষ্ট্র তার প্রয়োজনেই জ্ঞানীগুণী মানুষদের সম্মানিত করে।”
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। ১৯৭৬ সালে তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একুশে পদক কেবল একটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নয়; এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়গুলোকে স্মরণে আনার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ফেব্রুয়ারি মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এটি মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস।”
এ বছর একুশে পদকে ভূষিত কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের সৃজনমুখর ও কল্যাণময় দীর্ঘ জীবনের কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানকে জাতির জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
