
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তপথে কোনোভাবেই যেন তেল প্রতিবেশী দেশে চলে না যায়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন পয়েন্টে টহল, তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। এই কাজে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড, যা সন্দেহজনক যানবাহন ও পণ্য চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষ করে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম আরও কঠোর করা হয়েছে। এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী ট্রাক ও লরিগুলোকে ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিজিবির কর্মকর্তা জানান, সন্দেহজনক কোনো যানবাহন বা পণ্য ধরা পড়লেই তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিবিরবাজার স্থলবন্দর এলাকা ও কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও পেট্রোল ও অকটেনের সংকট তৈরি হয়েছে। তেল নিতে আসা অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নগরের চকবাজার এলাকার নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, “মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অনেক চালক তা মানছেন না। কেউ একবার তেল নেওয়ার পর আবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
অন্যদিকে কিছু চালকের অভিযোগ, কিছু পাম্পে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী চালক আবদুল আউয়াল বলেন, “পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকার পরও পাম্প মালিক ও অসাধু চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট তৈরি করছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে।”
তবে পাম্প মালিকদের দাবি, হঠাৎ করে গ্রাহকদের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের ১০ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মো. বিল্লাল হোসেন জানান, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ডগ স্কোয়াডও কার্যক্রমে নিয়োজিত। তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী সব ধরনের গাড়ির ফুয়েল ট্যাংকে তেলের পরিমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তেল পাচারসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে।”
বিজিবি এই ধরনের তৎপরতার মাধ্যমে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ জ্বালানি তেল পাচার রোধের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। তেল পাচারের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি এবং ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার সাধারণ জনগণ এবং গাড়ি চালকদের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে অভিমত জানা গেছে।
