
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীতে ভোরের অভিযানে গ্রেপ্তার হলেন এক-এগারো পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় আলোচিত প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মো. আফজাল নাছের (৬১)। সোমবার ভোরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ১২ নম্বর রোডের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করে।
ডিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হলেও খুব শিগগিরই তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ঘোষিত জরুরি অবস্থার পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালে আফজাল নাছের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ২০০৭ সালের জুন থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ায় তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।
বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আফজাল নাছের উপস্থিত ছিলেন—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়ে আসছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আগে কখনো প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এর আগে এক-এগারো সময়ের আরেক বিতর্কিত সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। বর্তমানে তারা রিমান্ডে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মো. আফজাল নাছের ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায়। এক-এগারো পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর তাকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সাম্প্রতিক অভিযানে তার গ্রেপ্তার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এক-এগারো অধ্যায়ের নানা অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে।
Reporter Name 









