
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬): রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সৌজন্য ও শিষ্টাচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তাঁকে নিজ কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত সবার কাছে ঘটনাটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে প্রতিভাত হয়।
সোমবার বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-এর সহধর্মিণী দিলার হাফিজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
জানাজা শেষে দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে নিজের সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সাক্ষাৎটি ছিল সংক্ষিপ্ত হলেও তা ছিল আন্তরিক ও সৌজন্যপূর্ণ। প্রায় ২০ মিনিট ধরে দুই নেতা বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে তাঁর সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নেতাকর্মীদের প্রশংসা কুড়ায়।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময়ই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষসহ সবাইকে যথাযথ সম্মান ও সৌজন্য প্রদর্শন করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর এই সৌজন্যমূলক আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
আজকের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ—যেখানে রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শিষ্টাচার অটুট রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ও পারস্পরিক সম্মান ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করে।
সোমবারের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়—বরং এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সৌহার্দ্য ও শিষ্টাচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
Reporter Name 








