
মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন (মঈন)সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং নিশ্চিত করে জানায়, অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঁদাবাজির মামলার প্রধান আসামি মঈনসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মঈন ও তার সহযোগীরা বাদীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাদীকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে বাদীর বাসার সামনে গিয়ে মঈন ও তার সহযোগীরা চাঁদা দাবি করে। ওই সময় তারা বাদীর স্ত্রীকে দরজা খুলতে বাধ্য করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে স্বামী-স্ত্রীর ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
বাদীর স্ত্রী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগে বলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে দেখে বাদী বাড়ির অন্য একটি কক্ষে আশ্রয় নেন এবং বিষয়টি তার হাসপাতালে অবস্থানরত ভাইকে জানান।
পরে তার ভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মঈনসহ আরও ৭–৮ জন ব্যক্তি ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক একত্রিত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালিগালাজ করে এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, যার ফলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো চাঁদাবাজি বা হাসপাতাল কেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
