Dhaka 4:59 am, Thursday, 16 April 2026

গার্ড অব অনারে আবেগঘন বরণ, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে সংবর্ধনায় ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করল ব্রাহ্মণপাড়া মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:59:11 am, Wednesday, 8 April 2026
  • 69 Time View

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অবস্থিত মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ-এর উদ্যোগে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কলেজের বিএনসিসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে বরণ করেন। পরে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস আর কৃতজ্ঞতার আবহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষানুরাগী ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের আজীবন দাতা সদস্য ফয়জুন নাহার চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতার কন্যা নওশীন তাবাসসুম খান চৌধুরী ও পুত্র ফারহান খান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলতাফ হোসেন বলেন, “প্রতিষ্ঠাতার দূরদর্শিতা, ত্যাগ ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই আজ এই প্রতিষ্ঠান একটি সুপরিচিত শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। তাঁর মহৎ উদ্যোগের কারণেই ব্রাহ্মণপাড়ার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, ফলাফলে ধারাবাহিক সাফল্য এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অগ্রগতি—সবকিছুতেই প্রতিষ্ঠাতার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল ইট-পাথরের ভবন দিয়ে বড় হয় না; মানসম্মত শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমেই প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, তাঁর লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাকেন্দ্রে রূপান্তর করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এবং মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে।

বিশেষ অতিথি ফয়জুন নাহার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান শুধু একটি কলেজ নয়; এটি একটি আদর্শ গড়ে তোলার কারখানা, যেখানে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হয়।”

অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সম্পাদক সৈয়দ আহাম্মেদ লাভলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে সম্মান জানানো হয়। পরে অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

পুরো আয়োজনে ছিল আবেগ, কৃতজ্ঞতা ও নতুন প্রত্যয়ের বার্তা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিষ্ঠাতার পৃষ্ঠপোষকতা ও দিকনির্দেশনায় কলেজটি ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জন করবে এবং ব্রাহ্মণপাড়াকে একটি শিক্ষাবান্ধব জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Admin1 Admin1

জনপ্রিয়

আজ থেকে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

গার্ড অব অনারে আবেগঘন বরণ, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে সংবর্ধনায় ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করল ব্রাহ্মণপাড়া মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

Update Time : 03:59:11 am, Wednesday, 8 April 2026

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অবস্থিত মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ-এর উদ্যোগে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কলেজের বিএনসিসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে বরণ করেন। পরে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস আর কৃতজ্ঞতার আবহ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষানুরাগী ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের আজীবন দাতা সদস্য ফয়জুন নাহার চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতার কন্যা নওশীন তাবাসসুম খান চৌধুরী ও পুত্র ফারহান খান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলতাফ হোসেন বলেন, “প্রতিষ্ঠাতার দূরদর্শিতা, ত্যাগ ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই আজ এই প্রতিষ্ঠান একটি সুপরিচিত শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। তাঁর মহৎ উদ্যোগের কারণেই ব্রাহ্মণপাড়ার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, ফলাফলে ধারাবাহিক সাফল্য এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অগ্রগতি—সবকিছুতেই প্রতিষ্ঠাতার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল ইট-পাথরের ভবন দিয়ে বড় হয় না; মানসম্মত শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমেই প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, তাঁর লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাকেন্দ্রে রূপান্তর করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এবং মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে।

বিশেষ অতিথি ফয়জুন নাহার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান শুধু একটি কলেজ নয়; এটি একটি আদর্শ গড়ে তোলার কারখানা, যেখানে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হয়।”

অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সম্পাদক সৈয়দ আহাম্মেদ লাভলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে সম্মান জানানো হয়। পরে অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

পুরো আয়োজনে ছিল আবেগ, কৃতজ্ঞতা ও নতুন প্রত্যয়ের বার্তা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিষ্ঠাতার পৃষ্ঠপোষকতা ও দিকনির্দেশনায় কলেজটি ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জন করবে এবং ব্রাহ্মণপাড়াকে একটি শিক্ষাবান্ধব জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।