Dhaka 9:52 pm, Tuesday, 10 March 2026

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট বিএনপির

  • Reporter Name
  • Update Time : 06:56:51 am, Monday, 28 July 2025
  • 364 Time View

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত দ্বিতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ থেকে হঠাৎ করে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫, ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

বৈঠকের শুরুতে কিছু সময় অংশগ্রহণ করলেও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), এবং ন্যায়পাল নিয়োগে প্রক্রিয়াগত বিধান নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে বিএনপির পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। দলটির নেতারা এসব সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এরপরই ওয়াকআউট করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশগ্রহণ করলেও শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলে। তারা অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তি দুর্বল হবে।

এক পর্যায়ে আলোচনার টেবিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিএনপির প্রতিনিধিরা বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করেন। ওয়াকআউটের পর তাদের কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, “এই প্রহসনের বৈঠকে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা রক্ষা করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কমিশন সব রাজনৈতিক দলের মতামত শুনে গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। কিন্তু এভাবে বৈঠক বর্জন হলে ভবিষ্যতের জন্য সহাবস্থানের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এই সংলাপের ২০তম দিন ছিল সোমবার। এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় সব দলই নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পক্ষে মত দেয়, তবে বিএনপির কণ্ঠ ছিল সবচেয়ে কড়া।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে একটি স্থিতিশীল ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য এই বৈঠকগুলো আয়োজন করছে। এতে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ প্রায় সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

 রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যকার বিভাজন আরও স্পষ্ট হলো। পাশাপাশি, এই ঘটনায় ঐকমত্য প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণপাড়ায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপনে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট বিএনপির

Update Time : 06:56:51 am, Monday, 28 July 2025

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত দ্বিতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ থেকে হঠাৎ করে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫, ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

বৈঠকের শুরুতে কিছু সময় অংশগ্রহণ করলেও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), এবং ন্যায়পাল নিয়োগে প্রক্রিয়াগত বিধান নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে বিএনপির পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। দলটির নেতারা এসব সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এরপরই ওয়াকআউট করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশগ্রহণ করলেও শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলে। তারা অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তি দুর্বল হবে।

এক পর্যায়ে আলোচনার টেবিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিএনপির প্রতিনিধিরা বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করেন। ওয়াকআউটের পর তাদের কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, “এই প্রহসনের বৈঠকে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা রক্ষা করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কমিশন সব রাজনৈতিক দলের মতামত শুনে গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। কিন্তু এভাবে বৈঠক বর্জন হলে ভবিষ্যতের জন্য সহাবস্থানের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এই সংলাপের ২০তম দিন ছিল সোমবার। এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় সব দলই নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পক্ষে মত দেয়, তবে বিএনপির কণ্ঠ ছিল সবচেয়ে কড়া।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে একটি স্থিতিশীল ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য এই বৈঠকগুলো আয়োজন করছে। এতে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ প্রায় সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

 রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যকার বিভাজন আরও স্পষ্ট হলো। পাশাপাশি, এই ঘটনায় ঐকমত্য প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।