
ডেস্ক নিউজ
বর্ষবরণের মাধ্যমে মহা ধুমধামের মধ্য দিয়ে বরণ করা হয় পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি। এটা বাংলার ঐতিহ্য ও রীতি, পহেলা বৈশাখ মানেই তো বাংলা নববর্ষ । বাংলা নববর্ষের সূচনা দিনের প্রথম সূর্য উদয়ের সাথে সাথেই। বাংলায় বৈশাখ শুধু আম-জাম-কাঁঠালের মতো মজাদার ফলের জন্যই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নয়, এর প্রচণ্ড গরম ও প্রলয়ঙ্করী কালবৈশাখী ঝড়ের জন্যও রয়েছে এর প্রতি মানুষের বিশেষ সমীহ! বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড় তো মুহূর্তে ধারণ করে বিভীষিকাময় রূপ। গ্রামাঞ্চলে এর দাপটও বেড়ে যায় কয়েক গুণ, যেখানে মানুষ বাঁশ, বেড়া, মাটি অথবা টিনের তৈরি ঘরে দিন যাপন করে। নদীর পাড়ে যারা বসবাস করে, তাদেরকেও নিমেষে নিঃস্ব করে দিতে পারে এই কালবৈশাখী, নদীর পাড় ধসের মাধ্যমে।
গ্রামাঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়তে অনেকেই দেখেছেন, চাক্ষুষ অথবা গণমাধ্যমে বা টেলিভিশনে। গ্রামে যেমন, তেমনি শহরেও ভীতিকর রূপ ধারণ করে কালবৈশাখী মাঝেসাঝেই।
তবে আশার কথা, যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষ চাইলেই পরিত্রাণ পেতে পারে শুধু তার কর্মকাণ্ড দ্বারা, শুনতে একটু আষাঢ়ে গল্পের মতো শোনালেও—মানুষের হাতে কিন্তু রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্বিপাক থেকে রক্ষা পাওয়ার রক্ষা কবচ!
অবাধে বন উজাড় করা থেকে বিরত থাকা হতে পারে এর প্রথম পদক্ষেপ। হ্যাঁ, শুধু বৃক্ষনিধনের মাধ্যমেই মানুষ ডেকে আনছে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিকম্পের মতো প্রাণঘাতী সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে। বৃক্ষনিধনের সমান অনুপাতে যদি তারা বৃক্ষরোপণ করত, তাহলে অনেকাংশে এসব প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু মানুষ তার নিজের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ডেকে আনছে নিজের বিপর্যয়, যার পরিণতিতে নিজেরাই ভোগ করছে অপরিসীম দুঃখ-কষ্ট। বনায়নের মাধ্যমে হয়তো বন্ধ হবে না প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কিন্তু রেহাই মিলবে তার প্রচণ্ডতার হাত থেকে। যেমন কালবৈশাখী ঝড়ের মতো বিপর্যয়ে মোকাবেলায় বনায়ন রাখতে পারে অন্যতম নিয়ামক ভূমিকা। যেকোন প্রলয়ঙ্করী ঝড় গাছপালার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়, এবং ক্রমে স্তিমিত হয়ে আসে । গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রোথিত থাকে বিধায় ভূমিধসের মতো বিপর্যয়ে পালন করে সক্রিয় ভূমিকা। শিকড়ের কারণে সহজে বন্যার কারণে মাটি এক জায়গা থেকে অন্যত্র সরে যেতে পারে না, মাটির দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়। উপরন্তু চৈত্র-বৈশাখের প্রচণ্ড গরমে মানুষ যখন একটুকরো ছায়ার জন্য হাঁসফাঁস করে, তখন গাছ হতে পারে অনাবিল ছায়ার উৎস। পাশাপাশি ভূমিকম্পের প্রচণ্ডতা প্রতিরোধেও গাছের ভূমিকা অপরিহার্য।
অপরপক্ষে ঢালাও ভাবে নদী ভরাট ও পানি নিষ্কাষণের মাধ্যমে মানুষ মুখোমুখি হয় খরার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ।
অবাধে মাটি খনন করার মাধ্যমে মাটির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, মাটি খনন করার মাধ্যমে উর্বর মাটির পরিমাণ কমতে থাকে, যে ভূমিতে হয়তো শস্য-ফসল ও শাকসব্জি চাষ করা যেতো, তা শিকার হচ্ছে খননের। তদুপরি খেত-খামারে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য ও ধোঁয়া ও যানবাহনের ধোঁয়া তো রয়েছেই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হিসাবে।
Reporter Name 



















