
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুর চৌরাস্তার মোড়ের পাশে ছোট চায়ের দোকান। এক চুমুক চায়ে মগ্ন থাকা যায় না, রাজনৈতিক আলোচনা চলছেই। নির্বাচনের সময় মানেই রাজনীতির উত্তাপ। ভোটগ্রহণ আর কদিনের মধ্যে। সাধারণ মানুষের মতোই রাজনৈতিক মনোযোগী এই এলাকার দুজন বাসিন্দা—আলমগীর হোসেন ও রিপন হোসেন—চায়ের কাপ হাতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা নিয়ে খুঁজছেন খবর। তারা খোলাখুলি আলোচনা করছেন নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে।
দুইজনই একমত যে, এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনের ছবি এখনও স্পষ্ট নয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের সমাবেশ ও প্রচারণা দেখে অনুমান করা যায় কিছুটা, কিন্তু জামায়াতে ইসলামী কতটা কার্যকরভাবে মাঠে নেমেছে, তা এখনো অজানা। ভোটব্যাংক নিয়ে সঠিক অনুমানও কঠিন। তবে স্থানীয়দের ধারণা, গাজীপুরের বেশিরভাগ আসন বিএনপির দখলে থাকবে।
প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় আরও একজন উপস্থিত হন। দোকানদার সোহাগ মাঝে-মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা দেখছেন, এই এলাকায় কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের পরিচিত নেতাদেরও দেখা মেলছে না। ফলে এই দলের ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন কি না, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, বিএনপি ও জামায়াত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের দখলে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আলমগীর হোসেন বলেন বিএনপি-জামায়াত সব প্রচারণা চালাচ্ছে। মানুষের কাছে ভোট চাইছে। ব্যানার টানানো হয়েছে। আসনটিতে বিএনপি এগিয়ে আছে। আওয়ামী লীগের লোকজন পলাতক, পরিচিত কর্মীরাও নেই। ভোট গেলে সেগুলোও বিএনপির হয়ে যাবে। জামায়াত কিছুটা পাবে।”
রিপন হোসেন বলেন:
“সব প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছে। ভোট শেষে দেখা যাবে কে জিতবে। জামায়াত মাঠে বেশ আঁটঘাট বেঁধেছে। তাই নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না।”
কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বাস স্ট্যান্ড এলাকার দীর্ঘদিনের ভোটার মমতা বেগম বলেন, “সব দলই ভোট চাইছে। আমি ভোট দেবো।” আর খলিল মিয়া, যিনি আগে পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছিলেন, এখন সড়ক ও যানবাহনে পেয়ারা-মরিচ বিক্রি করেন, বললেন: “ধানের শীষের মিছিল-মিটিংতে যারা যায়, তারা ভোট দিলে বিএনপি জিতবে। তবে শ্রমিকরা নির্বাচনের দিনে বাড়ি গেলে ভোট দেবে, অন্যথায় নাও যেতে পারে।”
গাজীপুর-১ আসনের ভোটার সংখ্যা: ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৩৯ জন, পুরুষ ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৩৪, নারী ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৯৩ ও হিজড়া ১২ জন। আসনটি কালিয়াকৈর উপজেলা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১–১৮ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।
এলাকার সাধারণ মানুষ প্রধানত চান যানজট হ্রাস, চুরি ও ছিনতাই রোধ, মাদক নির্মূল, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, ফুটপাত সংস্কার ও শহরের সৌন্দর্য বজায় রাখা। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক থাকলেও নেতাদের অনুপস্থিতি, শিল্প কারখানার শ্রমিক ভোটারদের অনিশ্চয়তা এবং বিএনপির সক্রিয় প্রচারণা নির্বাচনী চিত্রকে অপ্রত্যাশিত করে তুলেছে।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. শাহ্ আলম বকশী মুঠোফোনে জানালেন:
“জমি উর্বর হচ্ছে। ভাসমান ভোটার চলে যাবে। তবে শ্রমিকদের ভোট আশা করছি। আমরা সবার কাছে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের ভোটারও আসবে, বিএনপিরও।” তিনি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়া, নির্বাচনী মাঠে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভোটার উপস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের স্থির ভোট তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
গাজীপুর-১ আসনের ভোটের দিকে তাকিয়ে এলাকার রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। ভোটারদের উপস্থিতি, শ্রমিকদের অংশগ্রহণ এবং দুই প্রধান বিরোধী দলের সক্রিয় প্রচারণা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
Reporter Name 



















