
স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ রানা
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আবারও মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত একটি চালানে ‘মিথ্যা ঘোষণা’ দিয়ে বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রার উপাদানসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের মূল্যবান র-মেটেরিয়াল (কাঁচামাল) উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এই অপতৎপরতার মাধ্যমে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির পাঁয়তারা করা হচ্ছিল, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অন্য পণ্যের ঘোষণা দিয়ে এই চালানটি বাংলাদেশে প্রবেশ করায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউসের গোয়েন্দা ও তদন্ত সেল পণ্যটি পরীক্ষার আওতায় আনে। কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষিত পণ্যের আড়ালে লুকানো রয়েছে যৌন উত্তেজক ভায়াগ্রার উপাদান এবং উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ওষুধের কাঁচামাল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবৈধ আমদানির ফলে রাষ্ট্র তার প্রাপ্য শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জালিয়াতি চক্রটি কর ফাঁকি দিয়ে অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে বন্দরকে ব্যবহার করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য এক বড় হুমকি।
বৈধ পথে পণ্য আমদানি না করে ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আনায় সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ নীতিমালা থাকলেও চোরপথ ব্যবহারের কারণে এসব পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। ফলে নিম্ন মানের ওষুধ বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।একটি অসাধু চক্র বারবার একই কায়দায় জালিয়াতি করার সাহস পাওয়ায় বন্দরের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল পণ্য আটকই যথেষ্ট নয়; এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সিএন্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এ ধরনের রাজস্ব ফাঁকির মহোৎসব বন্ধ করা অসম্ভব।
রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। যখন কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী নিজ স্বার্থে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়, তখন তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। বেনাপোল বন্দর দিয়ে এই অবৈধ প্রবণতা রোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
Reporter Name 


















