Dhaka 2:29 pm, Friday, 17 April 2026

লামা উপজেলায় প্রত্যেক টোল গেটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তল্লাশির সিদ্ধান্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:18:45 am, Wednesday, 11 March 2026
  • 172 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক | লামা, বান্দরবান
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিভিন্ন সড়কে অস্থায়ী টোল গেট বসিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ইজারা শর্ত ভঙ্গ করে বা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই যানবাহন থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটকবাহী গাড়ি ও মালবাহী ট্রাক থেকে রশিদ (স্লিপ) ছাড়া টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায়ের ক্ষেত্রে রশিদ প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও অনেক জায়গায় তা মানা হচ্ছে না। ফলে চালক ও যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। লামা হয়ে চট্টগ্রামমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গরু, কাঠ, তামাক, কলা, সবজি, বাঁশসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহন থেকেও বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে ব্যবসায়ী ও চালকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে সম্প্রতি লামায় একটি তামাক কোম্পানি থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কোম্পানির কাছ থেকে লুট হওয়া প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার মধ্যে কয়েক দফায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা টাকাগুলো মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো টোল গেটে রশিদ ছাড়া টাকা দিতে বাধ্য করা হলে বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার হলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তাও নেওয়া সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ টোল আদায় বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, নিয়মের বাইরে টোল আদায় বন্ধ করা গেলে সড়কপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন এবং এলাকার সড়ক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
ছবি- সংগৃহীত
Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

পদ্মা সেতুতে এক রাতে দুই দুর্ঘটনা, বাস ও মিনি কাভার্ড ভ্যান উল্টে আহত ৭,

লামা উপজেলায় প্রত্যেক টোল গেটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তল্লাশির সিদ্ধান্ত

Update Time : 07:18:45 am, Wednesday, 11 March 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক | লামা, বান্দরবান
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিভিন্ন সড়কে অস্থায়ী টোল গেট বসিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ইজারা শর্ত ভঙ্গ করে বা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই যানবাহন থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটকবাহী গাড়ি ও মালবাহী ট্রাক থেকে রশিদ (স্লিপ) ছাড়া টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায়ের ক্ষেত্রে রশিদ প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও অনেক জায়গায় তা মানা হচ্ছে না। ফলে চালক ও যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। লামা হয়ে চট্টগ্রামমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গরু, কাঠ, তামাক, কলা, সবজি, বাঁশসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহন থেকেও বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে ব্যবসায়ী ও চালকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে সম্প্রতি লামায় একটি তামাক কোম্পানি থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কোম্পানির কাছ থেকে লুট হওয়া প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার মধ্যে কয়েক দফায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা টাকাগুলো মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো টোল গেটে রশিদ ছাড়া টাকা দিতে বাধ্য করা হলে বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের শিকার হলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তাও নেওয়া সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ টোল আদায় বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, নিয়মের বাইরে টোল আদায় বন্ধ করা গেলে সড়কপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন এবং এলাকার সড়ক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
ছবি- সংগৃহীত