Dhaka 2:44 pm, Friday, 17 April 2026

খাগড়াছড়িতে তিন মাসে আট পাহাড় বিলীন!

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:54:11 am, Wednesday, 8 April 2026
  • 90 Time View

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে একের পর এক সবুজ পাহাড় কেটে সাবাড় করছে মাটিখেকো চক্র। প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও মামলাও তাদের থামাতে পারছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বছরের গত তিন মাসেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটটি পাহাড় কেটে বিলীন করে দেওয়া হয়েছে। আর গত এক বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০টি পাহাড়-টিলা কেটে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস ও বন্দোবস্তপ্রাপ্ত পাহাড়ি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন। নতুন বসতবাড়ি নির্মাণ ও নিচু জমি ভরাটে এসব পাহাড়ের মাটি ব্যবহার হচ্ছে। আগে কোদাল ও শাবল দিয়ে পাহাড় কাটা হলেও এখন শক্তিশালী স্কেভেটর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে।

চলতি বছরের তিন মাসে সদর ইউনিয়নের লেমুয়ায় একটি, বড়ডলুতে একটি এবং এয়াতলংপাড়ায় দুটি পাহাড় কাটা হয়েছে। এছাড়া যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের খাড়িছড়া ও কালাপানিতে চারটি পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

সর্বশেষ গত রোববার কালাপানি মৌজার যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাড়িছড়া মাস্টারপাড়া এলাকায় প্রায় ১৫ একর সরকারি খাস জমির চারটি পাহাড় কেটে লেক ও রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে নির্জন এলাকায় টানা তিন-চার দিন ধরে দুটি শক্তিশালী যন্ত্রের সাহায্যে পাহাড় কাটা হচ্ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহিরার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের খবর পেয়ে জড়িতরা যন্ত্রপাতি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে দুটি যন্ত্র জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি থানায় আনা হয়েছে এবং অন্যটি আনার প্রস্তুতি চলছে।

সহকারী কমিশনার জানান, কাটা পাহাড়গুলো সরকারি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। মো. মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অর্থদণ্ড ও মামলা করা হলেও পাহাড় কাটার প্রবণতা থামছে না। প্রশাসনের দাবি, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধ করা কঠিন।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড় ধ্বংস অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমিধস, পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া এবং কৃষিজমির ক্ষতির মতো দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :
সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল হাসান

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Admin1 Admin1

জনপ্রিয়

পদ্মা সেতুতে এক রাতে দুই দুর্ঘটনা, বাস ও মিনি কাভার্ড ভ্যান উল্টে আহত ৭,

খাগড়াছড়িতে তিন মাসে আট পাহাড় বিলীন!

Update Time : 04:54:11 am, Wednesday, 8 April 2026

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে একের পর এক সবুজ পাহাড় কেটে সাবাড় করছে মাটিখেকো চক্র। প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ও মামলাও তাদের থামাতে পারছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বছরের গত তিন মাসেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটটি পাহাড় কেটে বিলীন করে দেওয়া হয়েছে। আর গত এক বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০টি পাহাড়-টিলা কেটে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস ও বন্দোবস্তপ্রাপ্ত পাহাড়ি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন। নতুন বসতবাড়ি নির্মাণ ও নিচু জমি ভরাটে এসব পাহাড়ের মাটি ব্যবহার হচ্ছে। আগে কোদাল ও শাবল দিয়ে পাহাড় কাটা হলেও এখন শক্তিশালী স্কেভেটর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে।

চলতি বছরের তিন মাসে সদর ইউনিয়নের লেমুয়ায় একটি, বড়ডলুতে একটি এবং এয়াতলংপাড়ায় দুটি পাহাড় কাটা হয়েছে। এছাড়া যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের খাড়িছড়া ও কালাপানিতে চারটি পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

সর্বশেষ গত রোববার কালাপানি মৌজার যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাড়িছড়া মাস্টারপাড়া এলাকায় প্রায় ১৫ একর সরকারি খাস জমির চারটি পাহাড় কেটে লেক ও রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে নির্জন এলাকায় টানা তিন-চার দিন ধরে দুটি শক্তিশালী যন্ত্রের সাহায্যে পাহাড় কাটা হচ্ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহিরার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের খবর পেয়ে জড়িতরা যন্ত্রপাতি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে দুটি যন্ত্র জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি থানায় আনা হয়েছে এবং অন্যটি আনার প্রস্তুতি চলছে।

সহকারী কমিশনার জানান, কাটা পাহাড়গুলো সরকারি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। মো. মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অর্থদণ্ড ও মামলা করা হলেও পাহাড় কাটার প্রবণতা থামছে না। প্রশাসনের দাবি, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধ করা কঠিন।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড় ধ্বংস অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমিধস, পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া এবং কৃষিজমির ক্ষতির মতো দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।