আল আমিন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত অফিস সময় মেনে চলছেন না—এমন অভিযোগ উঠেছে। সকাল ৯টায় অফিস শুরু হলেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আসছেন সকাল ১১টার পরে। আবার অনেকে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এমনকি অনুপস্থিত থেকেও কয়েকদিন পর এসে স্বাক্ষর করার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৯টার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কক্ষে উপস্থিত থাকার কথা। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ দপ্তরে অবস্থান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে যথাযথ নজরদারি ও জবাবদিহিতার অভাবে এসব নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা পেরিয়ে গেলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী এবং নির্বাচন কর্মকর্তা ছাড়া অধিকাংশ কর্মকর্তা দপ্তরে অনুপস্থিত। সমাজসেবা, প্রাণিসম্পদ, কৃষি, প্রাথমিক শিক্ষা, মৎস্য, সমবায়, পরিবার পরিকল্পনা, যুব উন্নয়ন, মহিলা বিষয়ক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ বেশিরভাগ দপ্তরের কক্ষ ফাঁকা দেখা যায়।
অনেক অফিসে পিয়ন ছাড়া অন্য কোনো স্টাফকেও দেখা যায়নি। কোথাও তালাবদ্ধ অফিস, কোথাও আবার খালি চেয়ার—এমন চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো।
সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সমাজসেবা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। পাশের কক্ষে শুধু অফিস সহকারী উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কক্ষে একাধিক ফ্যান চললেও কাউকে পাওয়া যায়নি। অপেক্ষমাণ এক সেবাপ্রত্যাশী অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই অনুপস্থিত থাকেন।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষ বন্ধ থাকলেও ভেতরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন অনিয়ম প্রায় প্রতিদিনই ঘটে। অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার আগে আসেন না এবং অনেকেই বিকেল ৩টার মধ্যেই চলে যান।
ফলে দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। অপরদিকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আ.ম. শহিদুল্লাহ প্রথমে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও পরে তিনি নরসিংদীতে অবস্থান করছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম.এ. মুহাইমিন আল জিহান বলেন, “অফিসে দেরি করে আসা বা অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
Reporter Name 


















